রাজ্যে শর্তসাপেক্ষ বাজিউ পোড়ানোর নির্দেশ দিলি পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। দীপাবলি ও ছট পুজোতে দু’ঘণ্টা করে ও বড়দিন আর বর্ষবরণের রাতে ৩৫ মিনিট করে বাজি পোড়ানো যাবে বলে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
তবে রাজ্যে বাজি পোড়ানো যাতে নিষিদ্ধ হয়, এর জন্য কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেই মামলার রায় এখনও দেয়নি কলকাতা হাইকোর্ট। এই রায়ের অপেক্ষায় এখন সাধারণ মানুষ।
গত বছর কালীপূজো, দীপাবলির সময় রাজ্যে করোনার বাড়বাড়ন্ত ছিল অত্যধিক। এর জেরে বহু মানুষ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সেই সময় বাজির ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষণের ফলে করোনা রোগীদের শরীর আরও খারাপ হয়ে পড়বে, এই কারণে বাজি পোড়ানো নিষিদ্ধ করা হয় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে অনুযায়ী।
চলতি বছর দুর্গাপুজো মিটতেই করোনা সংক্রমণ ফের বেড়েছে কিছুটা। উৎসবের মরশুমে মানুষের লাগামছাড়া হাবভাবের ফলে সংক্রমণ কিছুটা বেড়েছে বলেই মনে কছেন বিশেষজ্ঞরা। এবার তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। এখনই সাবধান না হলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর আকার নেওয়ার সম্ভাবনা।
এই কারণে এমন পরিস্থিতিতে ফের বাজি পোড়ানোয় নিষেধাজ্ঞা জারি করার আর্জি জানিয়ে রোশনি আলি নামে এক সমাজকর্মী জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন। তবে কলকাতা হাইকোর্ট এখনও মামলার রায় দেয়নি। আগামী শুক্রবার মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। এবারও গত বছরের মতো বাজি পোড়ানোর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে কী না, সে বিষয়টি নিশ্চিত করবে হাইকোর্টই।
তবে জনস্বার্থ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা হাই কোর্টের রায়দানের আগেই দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ বাজি পোড়ানোর অনুমতি দিল। দীপাবলি এবং ছটপুজোয় ২ ঘণ্টা করে বাজি পোড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
বলা হয়েছে, দীপাবলিতে রাত ৮টা থেকে ১০টা এবং ছটপুজোয় সকাল ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত বাজি পোড়ানো যাবে। বড়দিন এবং বর্ষবরণের রাতে ১১ টা ৫৫ মিনিট থেকে ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বাজি পোড়ানো যাবে। তবে পরিবেশবান্ধব বাজিই পোড়াতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের পর যদি কেউ বাজি পোড়ায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।





