‘আইনে কিচ্ছু হবে না, বাংলায় গুটখা, পানমশলা বিক্রি চলবেই’, সরকারি নির্দেশিকা জারি নিয়ে মত কলকাতার বিক্রেতাদের

এর আগেও দু’বার এক বছরের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই সাধারণ মানুষের সচেতনতার অভাব এবং আইন তোয়াক্কা না করার মনোভাবের জেরে খোলা বাজারে দেদার বিক্রি হয়েছে গুটখাসহ অন্যান্য তামাকজাত দ্রব্য। এবার সরকারের তরফে ৭ই নভেম্বর থেকে এক বছরের জন্য গুটখা, পান মশলা তামাকজাত দ্রব্য় নিষিদ্ধ করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে।

কিন্তু সরকারের এই নির্দেশিকা জারি নিয়ে বিক্রেতাদের দাবি, “আইনে কিছু হবে না। যেমন চলছে তেমনই চলবে”। কলকাতার সিঁথির মোড়ে এই বিষয়ে এক দোকানদারকে প্রশ্ন করা হলে প্রথমে একটু হাসেন তিনি। এরপর বলেন, “বাংলায় এসব বন্ধ হবে না। লোকে চায়, তাই বিক্রি করি”।

চিড়িয়া মোড়ের কাছেই সায়ন্তন গুহ নামক এক পান-বিড়ি-সিগারেট বিক্রেতাকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তাঁর বক্তব্য, “কারখানা বন্ধ না করে আইন এনে লাভ নেই। কারখানা চালু থাকলে উত্পাদনও হবে, মানুষও কিনবে, আমরাও বিক্রি করব”।

এদিকে বেলঘড়িয়া রেল স্টেশনের পাশেই একটি ছোট্ট স্টলের মালকিনেরও একই মত। মালতিদেবী বলেন, “জোর করে তো বিক্রি করি না। যখন লোকে এসে চাইবে আমার দোকানে না থাকলে পাশের দোকানে গিয়ে কিনবে। পুলিশ যদি এসে সবার বিক্রি বন্ধ করে, তখন আমিও বিক্রি করব না”।

বলে রাখি, এর আগে ২০১৯ সালেও এই একই ভাবে গুটখা, পান মশলাসহ একাধিক তামাকজাত দ্রব্য নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল মমতা সরকারের তরফে। ২০১৩ সালেও একবার এক বছরের জন্যে পশ্চিমবঙ্গে খৈনি, গুটকা, পানমশলা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আর এবার ফের রাজ্য সরকারের তরফে নির্দেশিকা জারি করে জানানো হয়েছে যে আগামী ৭ই নভেম্বর থেকে এক বছরের জন্য পশ্চিমবঙ্গে গুটখা, পানমশলার মতো নানান তামাকজাত দ্রব্য উৎপাদন, বিক্রি, সংরক্ষণ, সেবন নিষিদ্ধ হবে। জানা গিয়েছে, ২০০৬ সালের খাদ্য সুরক্ষা আইনের অধীনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জনসাধারণের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে।

RELATED Articles