তৃণমূলের কার্যালয়ের নামে বিল ছাপিয়ে সেই বিল দেখিয়ে তোলাবাজির অভিযোগ উঠল দলের চার নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি ও প্রাক্তন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। এরপরই ওয়ার্ড সভাপতিকে দল থেকে বহিষ্কার করে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করে ডানকুনি শহর তৃণমূল। তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে অভিযুক্তরা।
বেশ কিছুদিন ধরেই তৃণমূল কার্যালয়ের নামে বিল ছাপিয়ে তোলাবাজি চলছে বলে অভিযোগ। সম্প্রতি, এমনই একটি চাঁদার বিল সামনে আসে। এতে ডানকুনি দূর্গাপুর রোড চৌমাথা,চার নম্বর ওয়ার্ড ঠিকানায় আকবর আলি খন্দকার স্মৃতি ভবন লেখা রয়েছে। জানা গিয়েছে, সেই তৃণমূল কার্যালয়ের নামেই চলছে তোলা আদায়।
এই বিল দিয়েই কারোর নামে তিন হাজার তো আবার কারোর নামে পাঁচ হাজার টাকার চাঁদা কাটা হয়। এই বিলে কারোর নাম নেই। এই ঘটনা জানার পরই ডানকুনি থানায় অভিযোগ জানান ডানকুনি শহর তৃণমূল সভাপতি প্রকাশ রাহা। এই বিলের ছবি তিনি নিজের ফেসবুকেও শেয়ার করেন ও স্পষ্ট জানান যে এই ঘটনার সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই। যারা এমন কাজ করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এই বিষয়ে প্রকাশ রাহা বলেন, “এই ঘটনায় আমরা খোঁজ নিয়ে চার নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি শেখ আলি ও প্রাক্তন কাউন্সিলর হাসান মণ্ডলের নাম পেয়েছি। তারা ডানকুনি তৃণমূল কংগ্রেসের নামে বিল ছাপিয়েছে, রেজিস্ট্রেশন নম্বরও দিয়েছে। প্রয়াত নেতা আকবর আলি খন্দকারের নাম ব্যবহার করেছে অথচ তার পরিবারকে জানানো হয়নি। সেখানে বিধায়কের ছবি আছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি আছে যেটা আমরা জানিনা”।
তিনি আরও জানান, “এই ঘটনার জন্য চার নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি শেখ আলিকে দল থেকে বহিষ্কার করা হল। হাসান মণ্ডলের নামেও আমরা দলকে অভিযোগ করছি। যেহেতু সে কাউন্সিলর ছিল। দল ব্যবস্থা নেবে। প্রশাসনিক ভাবেও এর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।দলের নেত্রী বলে দিয়েছেন চাঁদা তোলা যাবে না। সেখানে এসব করা মানে এরা দলের অনুগত নয় । এসব কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না”।
তবে এদিকে অভিযুক্ত হাসান মণ্ডলের দাবী, তিনি তৃণমূলের জন্ম হওয়ার থেকেই দলের হয়ে কাজ করছেন। তাঁর ওয়ারদেজে সিপিএমের দলীয় কার্যালয় ছিল, সেটা তৃণমূল দলীয় কার্যালয় করা হয়। একথা সকলেরই জানা। তাঁর দাবী, তাঁকে বদনাম করার জন্য অন্য কেউ এই কাজ করছে। অন্যদিকে সভাপতি শেখ আলিও এই অভিযোগ অস্বীকার করে দলের কর্মীদের উপর দোষ চাপিয়েছেন।





