সেই পুরনো, চিরন্তনী সাজেই এখনও দেখা মেলে তাঁর, কপালে বড় টিপ, খোঁপায় ফুল ও ঠোঁটে লিপস্টিক। হ্যাঁ সেই শকুন্তলা বড়ুয়া। গান দিয়েই শুরু করেছিলেন নিজের কেরিয়ার। হবে নাই বা কেন বাড়িতেও যে পুরদমে সঙ্গীতের আমেজ।
তাঁর মা ছিলেন দীপ্তি ভট্টাচার্য। ভীষণ ভালো ঠুমরী গাইতেন তিনি। বাঁশরি লাহিড়ী, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে একই ব্যাচে ছিলেন তিনি। সারাদিন বাড়িতে গানের রেওয়াজ। আনবার অন্যদিকে বাবা ছিলেন রবীন্দ্রসঙ্গীতের ভক্ত। মেয়েও সেই ধাঁচই পেল। রবীন্দ্রভারতী থেকে রেকর্ড বের হয় শকুন্তলা বড়ুয়ার।
ধীরে ধীরে থিয়েটার, তারপর বড় পর্দা। সম্প্রতি তিনি দেব অভিনীত ‘টনিক’-এ অভিনয় করেছেন। সেই সম্পর্কে কথা বললেন এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে। অভিনেত্রী জানান তিনি দেবের সঙ্গে আগেও কাজ করেছেন, তবে এবার অনেকটা সময় কাটিয়েছেন। দার্জিলিংয়ে ছিল ছবির শুটিং। বয়স হয়েছে, পায়ে ব্যাথা। কিন্তু সেসব দিকে বেশ খেয়াল রেখেছিলেন দেব ও পরিচালক।
দীর্ঘদিন তিনি এই ইন্ডাস্ট্রিতে রয়েছেন। কোনও পরিবর্তন কী লক্ষ্য করেছেন তিনি। এই বিষয়ে বর্ষীয়ান অভিনেত্রীর জবাব, “জীবনে সব কিছুই পরিবর্তনশীল। তবে আমি প্রাচীনপন্থী, আধুনিকতা মেনে নিতে কষ্ট হয়। প্রতি পদক্ষেপে মনে হয়, এ রকম ভাবে কেন বলছে, এ ভাবে কেন করছে? কিন্তু মানিয়ে নিতে হয়। তার মধ্যেই নিজস্বতা বজায় রাখি”।
তবে ইদানিং তাঁকে আর সেভাবে টিভি বা বড় পর্দায় দেখা যায় না। শেষ দেখা গিয়েছিল, ‘ক্ষীরের পুতুল’ ধারাবাহিকে। এর জবাবে অভিনেত্রী জানান যে এই ধারাবাহিকের পর তিনি আর কোনও প্রস্তাব পান নি। তবে কাজ করতে চান তিনি। তাঁর কথায়, “নিজেই এক নামী প্রযোজককে ফোন করে বলি যে আমার জন্য কোনও চরিত্র থাকলে জানিও। এর আগে জীবনে কাউকে কখনও বলিনি কাজের জন্য। আমার খাওয়া-পরার অভাব হবে না। কিন্তু কাজের মানুষ কাজ ছাড়া বসে থাকতে পারি না। অসুস্থ, কাজ করতে পারছি না, সেটা অন্য কথা। কিন্তু সুস্থ মানুষ, কাজ নেই, বসে আছি। সেটা যন্ত্রণাদায়ক”।
এছাড়াও এক প্রযোজনা সংস্থার থেকে তাঁর লুক টেস্টের জন্য ডাকা হয়েছিল। সেই সময় তিনি নিজের আলাদা মেকআপ রুম চেয়েছিলেন। বয়স হয়েছে তাঁর। ছোটো ছোটো ছেলেমেয়েদের সঙ্গে একই মেকআপ শেয়ার করতে তেমন স্বচ্ছন্দ বোধ করেন নি তিনি। তবে পরবর্তীকালে সেই প্রযোজনা সংস্থার থেকে আর যোগাযোগ করা হয়নি। অন্য একজনকে কাস্ট করা হয় সেই চরিত্রের জন্য।
তাঁর একমাত্র মেয়ে রাজসী বিদ্যার্থী মুম্বইতে থাকেন। সেখানে থিয়েটার, ছবি করেন তিনি। তাপসী পান্নুর ‘উয়ো লড়কি হ্যায় কহাঁ’-তে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছেন তিনি। অবসর সময়ে কবিতা লিখতে ভালোবাসেন শকুন্তলা বড়ুয়া। রান্না করতেও খুব ভালোবাসেন। জানান যে তাঁর জামাই আশিস বিদ্যার্থী তাঁর হাতের রান্না খুব পছন্দ করেন। মেয়ে মুম্বই থেকেই সমস্ত রকমের কাজ করে দেয়। কলকাতায় আপাতত বোনের সঙ্গে থাকেন অভিনেত্রী।






