কেরলকে নাকি দেশের সবথেকে শিক্ষিত রাজ্য বলে গণ্য করা হয়। আর সেই কেরলেই ঘটে গেল শিক্ষকদের নিয়ে এমন অপমানজনক ঘটনা। কেরলের বাম সরকারের এমন কীর্তিতে ছিঃ ছিঃ রব উঠেছে সমস্ত মহলেই। কিন্তু এর উত্তর কী আদৌ দেবে কেরলের পিনারাই বিজয়নের সরকার!
পশ্চিমবঙ্গে প্রায় তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজত্ব করেছে বামেরা। এই সময়ের মধ্যে বামেদের শিক্ষানীতি অনেক প্রজন্মকেই শেষ করে দিয়েছে। আর সেই খেসারত আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন অনেকেই। কিন্তু এবার কেরলের বাম সরকার যা করল, তা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও বলা যেতে অপরাধযোগ্য।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, কেরলের বেশ কিছু আদিবাসী শিক্ষাকেন্দ্রে নিয়োজিত ছিলেন ৩৪৪ জন শিক্ষক। কিন্তু তাদের জন্য রাতারাতি এক অন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। এই ৩৪৪ জন শিক্ষককে রাতারাতি ধরিয়ে দেওয়া হল ঝাঁটা, বানিয়ে দেওয়া হল ঝাড়ুদার। শিক্ষাকেন্দ্রে পড়ুয়া কম আসছে, এমন যুক্তি দেখিয়ে ৩৪৪ জন শিক্ষককে ঝাড়ুদার হিসেবে নিয়োগ করা হল। আর এতেই কার্যত ফুঁসছে গোটা শিক্ষক মহল।
কেরলের বাম সরকারের এমন তুঘলকি ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে গর্জে উঠে শিক্ষক মহলের দাবী, সংশ্লিষ্ট শিক্ষাকেন্দ্রগুলি যদি তুলে দিতেও হয়, তাহলে ওই ৩৪৪ জন শিক্ষককে অন্য কোনও শিক্ষাকেন্দ্রে বা স্কুলে নিয়োগ করতে পারত সরকার। আর তা নাহলে, তাদের শিক্ষাকর্মী হিসেবে নিয়োগ করা জেট। কিন্তু তা না করে তাদের ঝাড়ুদার বানিয়ে দেওয়া হল। বাম সরকারের এমন সিদ্ধান্তে কার্যত বিমূঢ় হয়ে পড়েছেন ওই ৩৪৪ জন শিক্ষক। এবার তাদের ভবিষ্যৎ আদৌ কী হতে চলেছে, তা কারোর জানা নেই।
এখান থেকেই প্রশ্ন ওঠে যে বামেরা এই রাজ্যের মমতা সরকার বা বিরোধী দল বিজেপির সমালোচনায় সর্বদা ব্যস্ত থাকে, তারা কেরলের বাম সরকারের এমন কীর্তি নিয়ে কী যুক্তি খাড়া করবেন? বামেরা হামেশাই দাবী করতে থাকে যে তারা নাকি শিক্ষকদের সম্মান দিয়েছে, অর্থ দিয়েছে। তাহলে কেরল সরকারের এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদৌ কী বাংলার বামেরা মুখ খুলবে, এখন সেটাই দেখার।





