জাতীয় রাজনীতিতে তাদের একে অপরের সুখ্যাতি করতে দেখা গেলেও, বাংলার রাজনীতিতে কিন্তু তারা একে অপরের বিরোধী। পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর এবার বাংলায় ধীরে ধীরে সংগঠন মজবুত করতে উদ্যত হয়েছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি। আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনে তারাও অংশ নেবে বলেই জানা গিয়েছে।
এই কারণে এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নানান কাজে ব্যর্থতার রিপোর্ট কার্ড তৈরি করে তা হাতিয়ার করেই এবার ময়দানে নামতে চাইছে আপ। এতদিন পর্যন্ত অন্যান্য বিরোধী দল অর্থাৎ বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেসই শুধু মমতা সরকারকে তোপ দেগে এসেছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে আম আদমি পার্টিও। এর জেরে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দল বেশ চাপের মুখে পড়বে, তা বলাই বাহুল্য।
অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টির পক্ষ থেকে দাবী করা হয়েছে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মতীর্থ প্রকল্প চূড়ান্ত ব্যর্থ। তা এখন ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে। কর্তীর্থ থাকলেও কর্মসংস্থানের কোনও রূপরেখা নেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলায়, এমনটাই দাবী আপ-র। এমন আরও কিছু ব্যর্থতার ছবি তুলে ধরে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে রিপোর্ট কার্ড বানাতে চাইছে আম আদমি পার্টি।
আম আদমি পার্টির পক্ষে বাংলার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সঞ্জয় বসু বলেন, “বাংলা কর্মসংস্থানে পিছিয়ে পড়ছে ক্রমশ সরকারি অর্থে নানা প্রকল্প ও ভবন তৈরি করলেও, সেখান থেকে কোনও কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারছে না। কর্মতীর্থের অনেক ভবনই ভুতুড়ে বাড়ির হয়ে পড়ে রয়েছে”।
বাংলায় ধীরে ধীরে জাল বিস্তার করতে চায় আপ। কোনও তাড়াহুড়ো নয়, ধীরগতিতেই এগিয়ে নিজেদের জমি শক্ত করার দিকে হাঁটছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল। এর আগে বগটুই গণহত্যাকাণ্ড নিয়ে মমতা সরকারকে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ তোপ দেগে একটি প্রেস রিলিজ দিয়েছিল আপ। এবার হাঁসখালি ধ’র্ষ’ণকাণ্ড নিয়ে মমতা করা লজ্জাজনক মন্তব্য নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগড়ে দিল পশ্চিমবঙ্গের আম আদমি পার্টি।
আম আদমি পার্টির পক্ষ থেকে এও দাবী করা হয়েছে যে গত এক বছর ধরে রাজ্যের কর্মতীর্থ প্রকল্প নিয়ে নানান তথ্য সংগ্রহ করেছে তারা। কোন কোন কর্মতীর্থ প্রকল্পে কী কী কাজ হয়েছে, সেই খবর তথ্য জানার অধিকার আইনের ফলে তাদের কাছে এসে পৌঁছেছে। এর পাশাপাশি জেলায় জেলায় কর্মতীর্থ ভবনগুলির পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখা হয়েছে বলে খবর। তাদের কথায়, বর্তমানে কর্মতীর্থ ভবনগুলি আদতে সবুজ সাথী প্রকল্পের গুদাম ঘরে পরিণত হয়েছে।






