‘আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে’, বিশ্বকবিকে শতকোটি প্রণাম! কবিগুরুর ১৬১তম জন্মবার্ষিকীতে ফিরে দেখা নানান তথ্য

আজ, ২৫শে বৈশাখ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬১তম জন্মবার্ষিকী। রাজ্য তথা গোটা দেশজুড়ে চলছে কবিগুরুকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য নানান অনুষ্ঠান, আয়োজন। বিশ্বভারতীতে আজ সাজো সাজো রব। সকাল থেকেই সকলে মেতে উঠেছেন কবি প্রণামে। সকলেই নিজেদের মতো করে কবিগুরুকে জানাচ্ছেন শ্রদ্ধার্ঘ।

১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ (১৮৬১ সালের ৭ই মে) জোড়াসাঁকোর ৬ নং দ্বারকানাথ ঠাকুর লেনের ঠাকুরবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন এক বহুমুখী প্রতিভা। মা-বাবার চোদ্দ সন্তানের মধ্যে কনিষ্ঠতম সন্তান ছিলেন তিনি। ঠাকুরবাড়ির আভিজাত্য ও সংস্কৃতির মধ্যেই বেড়ে ওঠা তাঁর। আট বছর বয়স থেকেই কাব্যরচনা শুরু করেছিলেন তিনি। সেই কারণেই হয়ত বিশ্বকবি হয়ে উঠতে পেরেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

স্কুলের চারগণ্ডি মোটেই পছন্দ ছিল না তাঁর। কিন্তু স্কুল ছাড়া তো বাড়ির বাইরে বেরোনো যাবে না। ফলত, বাইরের জগতের সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য অনিচ্ছা সত্ত্বেও স্কুল যেতে হত তাঁকে। ১৮৭০ সালে একবার পিতা দ্বারকানাথ ঠাকুরের সঙ্গে একবার কলকাতার বাইরে যাওয়ার সুযোগ হয় তাঁর। সেই তাঁর প্রথম শহরের বাইরে পা রাখা।

১৮৭৮ সালে তিনি পাড়ি দেন ইংল্যান্ডে ব্যারিস্টারি পড়াশোনার জন্য। সেখানে গয়ে ইংরেজি সাহিত্য সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেন তিনি। তাঁর নানান লেখনীতেও বিলেতি সাহিত্যের ছোঁয়া পাওয়া যায় বই কি! সেই সময় বিলেতি সাহিত্য, নাটক, সঙ্গীত নিয়েও বেশ চর্চা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ।

অতঃপর, ১৮৯০ সালে শিলাইদহে পারিবারিক জমিদারির তত্ত্বাবধান শুরু করলেও, তাঁর মন কিন্তু পড়ে থাকত সাহিত্যা চর্চার দিকেই। ১৮৯১ থেকে ১৯০১ সালের মধ্যে তিনি লিখেছিলেন ১৯টি ছোটোগল্প। তাঁর লেখা ‘চিত্রা’, ‘সোনার তরী’ এই সময়েরই রচনা।  

১৯০১ সালে শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন রবীন্দ্রনাথ। এরপর থেকে সেখানেই পাকাপাকিভাবে বসবাস শুরু করেন তিনি। ১৯০২ সালে মৃত্যু হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রী মৃণালিনী দেবীর। ১৯০৫ সালে তিনি বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন।

১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলী’ কাব্যগ্রন্থের জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভূষিত হন ‘নোবেল’ পুরস্কারে। ১৯১৫ সালে ইংরেজরা তাঁকে নাইট উপাধিতে ভূষিত করলেও, ১৯১৯ সালের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানাতে সেই নাইট উপাধি ত্যাগ করেছিলেন বিশ্বকবি। ১৯২১ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন শ্রীনিকেতন নামের সংস্থা।

এরপর ১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বিশ্বভারতী। শেষ জীবনে সেখানেই নিজের সময় অতিবাহিত করতেন রবীন্দ্রনাথ। নিজের জীবদ্দশায় তিনি যেমন একদিকে পেয়েছেন অসংখ্য সম্মান, নাম, খ্যাতি, যশ, তেমনই আবার অন্যদিকে তাঁকে ভোগ করতে হয়েছে একাধিক প্রিয়জনের মৃত্যুযন্ত্রণাও। ১৯৪১ সালে কলকাতার বাড়িতেই জীবনাবসান ঘটে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের। তবে আজও তিনি সেই একইভাবে থেকে গিয়েছেন মানুষের মনে। শুধুমাত্র বাঙালি নয়, গোটা দেশবাসী বা বলা ভালো বিশ্বের নানান দেশের মানুষের মনেও তিনি আজও চিরস্মরণীয়।

RELATED Articles