মাঝে ব্যবধান তিন বছর দু’মাসের। এরই মধ্যে ফের নিজের পুরনো দলেই ফিরেছেন ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিং (Arjun Singh)। গতকাল থেকেই তাঁর তৃণমূলে (TMC) প্রত্যাবর্তন নিয়ে জল্পনা আরও জোরালো হয়েছিল। অবশেষে আজ, রবিবার বিকেলে তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee)উপস্থিতিতে তৃণমূলে ফেরেন অর্জুন।
এদিন তৃণমূলে ফিরেই বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন অর্জুন। তাঁর অভিযোগ, “ঠান্ডা ঘরে বসে আর ফেসবুকে রাজনীতি হয় না”। এদিন অর্জুন সিং তৃণমূলে ফেরার পর এক সাংবাদিক বৈঠক করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সেই বৈঠকে তিনি বলেন, “ফেসবুকে যদি আমরা রাজনীতি করি তাহলে আমাদের ২০০ কর্মী খুন হলেন কীকরে? উনি তৃণমূল ছাড়ার পর ওঁর বিরুদ্ধে একশোরও বেশি কেস হয়েছে। উনি কি ঠান্ডা ঘরে বলে কেস খেয়েছেন? ক্ষমতার বিরুদ্ধে লড়াই করাটা খুব কঠিন এই বাংলায়। উনি একা নন। এর আগেও অনেকে চলে গিয়েছিলেন তৃণমূল থেকে। তারা ফিরেও এসেছেন। চাপে পড়ে চলে গিয়েছে। ওঁর একাধিক ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এরপর হয়তো আর লড়াই করা সম্ভব ছিল না”।
দিলীপের সংযোজন, “অর্জুন সিং ক্ষমতায় থেকে রাজনীতি করে এসেছেন বিরোধী হয়ে রাজনীতি করাটা যে কতটা কঠিন সেটা বুঝতে পেরেছেন এখন। ওঁর ব্যক্তিগত সমস্যা আছে তাই উনি চলে গিয়েছেন”।
এরপরই দিলীপের দাবী, “অর্জুনের উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। তাই উনি যেতে বাধ্য হয়েছেন। উনি পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে রাজনীতি করা লোক। ওনার পক্ষে পুলিশের বিরুদ্ধে গিয়ে লড়াই করা অত্যন্ত কঠিন”।
দিলীপের কটাক্ষ, “তৃণমূলে যোগদান করতে হলে সোজাসুজি যোগদান করা উচিত। তৃণমূল ভালো বিজেপি খারাপে তো অনেকদিন ধরে চলে আসছে। আর তাছাড়া পুরনো ঘরে ফেরার জন্য এত কিছু করার দরকার নেই। এইটাই তৃণমূলের কালচার। তাই ঘোমটার তলায় খ্যামটা না নাচিয়ে, সোজাসুজি তৃণমূলে যেতে পারতেন তিনি। যা হবে খোলা খুলি হোক”।
অর্জুন সিং তৃণমূলে ফিরে অভিযোগ করেছেন যে বিজেপি নাকি তাঁকে গুরুত্ব দেয়নি। এর জবাবে দিলীপ বলেন, “কেন বলছেন বলতে পারবেন, আমরা তো মুখ্যমন্ত্রী করতে পারব না। আমাদের সেই সংখ্যা নেই। নয়তো সেটাও করে দেওয়া হত”।






