গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যেন সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা ঝড় বয়ে গিয়েছে। তবে সেই ঝড়ের রেশ এখনও কাটে নি। এখনও সেই বিষয় নিয়ে প্রতিনিয়ত আলোচনা হয়েছে। কী বিষয়? পল্লবী, বিদিশা ও মঞ্জুষার আত্মহত্যা!
গত কয়েকদিনে পরপর এই তিন মডেল-অভিনেত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় ইন্ডাস্ট্রি থেকে নেটিজেন, সকলেই যেন স্তম্ভিত। সকলেই একটাই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন, কেন? উদ্বেগ বেড়েছে উঠতি প্রজন্মের মধ্যে। একরকম ভয়, নিরাপত্তাহীনতা যেন কাজ করছে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে।
অনেকেরই ধারণা কম বয়সে হাতে অনেক টাকা পেয়ে বিনোদন জগতের সঙ্গে যুক্ত এই উঠতি প্রজন্মের মধ্যে উচ্চাকাঙ্ঘা তৈরি হচ্ছে। আর এর ফলস্বরূপ এমন ঘটনা বারবার সামনে আসছে। এবার এই প্রসঙ্গ নিয়ে মুখ খুললেন তৃণমূল যুব নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য।
একটি লম্বা ফেসবুক পোস্ট করে এই নিয়ে নিজের নানান ভাবনার কথা লেখেন তিনি। একের পর এক মডেল-অভিনেত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় প্রথমেই তিনি লেখেন, “লাইফস্টাইল একটু সহজ সরল রাখুন। নিজেদের আশপাশ অতিরিক্ত আড়ম্বরে মুড়ে ফেলবেন না। হাতে টাকা এলেই লোক দেখিয়ে খরচা করে নিজেকে কেউকেটা দেখাতে যাবেন না। চতুর্দিকে আমাদের বয়সী ছেলে মেয়েগুলো নিজেদের শেষ করে দিচ্ছে। কী কী কারণ আছে জানিনা; তবে জীবনযাত্রার মান ভীষণ ভাবে উপরে উঠিয়ে দেওয়ার পর যখন আর্থিক সংকটে তাকে মেনটেইন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, তখন সর্বনাশা ডিপ্রেসন চেপে ধরতে বাধ্য। যার পরিণাম শেষ কয়েক সপ্তাহের সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম”।
নিজের এই পোস্টে মা-বাবার উদ্দেশে দেবাংশু লেখেন যে বাচ্চাদের একটু মাঠে খেলতে দেওয়া উচিত। মাটি-কাদার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক রাখা উচিত। তবেই তো জীবনের সারমর্ম বুঝবে বাচ্চারা। সকলের সঙ্গে মিলেমিশে বড় হলে তবেই নিজের পরিজনদের প্রতি টান তৈরি হবে।

দেবাংশুর কথায়, “এই প্রজন্মের সকলকে মিলে একটা আদর্শ জীবন যাত্রার সর্বাত্মক আন্দোলন সংগঠিত করতে হবে। ছেলে মেয়েদের বাইরে খেলতে পাঠান। মারামারি করুক, চুলোচুলি করুক, আবার একে অন্যেকে পেয়ারা পেড়ে খাওয়াক। একটু কাদা মাটি মাখুক.. ছোট থেকে শিশুদের মিশতে দিন সবার সাথে। বীজ যেমন মাটি পাবে, গাছ হয়ে তার বাহার কিন্তু তেমনই হবে! চারা গাছ রোদ, বৃষ্টি না পেলে কিন্তু মরে যায়। এসি রুমে, ফাইবারের প্লেটে গাছ বাঁচে না”।






