এক চটজলদি খাবার হওয়ার সুবাদে ম্যাগি আমাদের সকলেরই বেশ পছন্দের। কোনও ঝুটঝামেলা অল্প সময়ের মধ্যেই তৈরি সুস্বাদু খাবার। অন্তত যে সমস্ত পড়ুয়ারা হস্টেলে বা মেসে থাকেন, তাদের কাছে তো ম্যাগি রীতিমতো জাতীয় খাদ্য। কিন্তু এই ম্যাগি নিয়েই এবার ঘটে গেল এক ‘কেস’।
বাচ্চা থেকে বড়, ম্যাগি পছন্দ করেন না এমন মানুষ খুব কমই রয়েছে। কিন্তু ধরুন যদি এমন হয় যে যখনই আপনি খেতে বসছেন, তখনই আপনার সামনে ধরা হচ্ছে এক বাটি ম্যাগি, তাহলে? ব্রেকফাস্ট হোক, লাঞ্চ বা ডিনার, সবেতেই আপনার কপালে জুটছে কেবল ম্যাগিই। আর অন্য কোনও খাবার নয়। তাহলেও কী ম্যাগির প্রতি ভালোবাসা অক্ষুণ্ণ থাকবে কারোর?
এমনই ঘটেছে এক পুরুষের সঙ্গে। রাতদিন শুধু ম্যাগি খেতে খেতে অতিষ্ঠ হয়ে শেষমেশ স্ত্রীকে ডিভোর্সই দিয়ে দিলেন এক স্বামী। না, মোটেই কোনও গল্পকথা নয়, এমন ঘটনা বাস্তবেই ঘটেছে। ম্যাগি নিয়ে কীভাবে ওই যুগলের মধ্যে বচসা শুরু হল, আসুন জেনে নিই।
এই বিষয়ে মাইসুরুর জেলা ও দায়েরা আদালতের বিচারক এম এল রঘুনাথ বলেন, “আমি যখন বল্লারি জেলা আদালতের বিচারক ছিলাম তখন এক অদ্ভুত বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা এসেছিল। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কেউই রান্না জানতেন না। অগত্যা ম্যাগির উপরই ভরসা করতে হয়েছিল তাঁদের। স্বামীর অভিযোগ ছিল, স্ত্রী তাঁকে তিনবেলা কেবলমাত্র ম্যাগি বানিয়ে দিতেন। আর তাই ডিভোর্সের মামলা করেন তিনি”।
বিচারক মজার ছলে এই মামলাটির নাম দেন ‘ম্যাগি মামলা’। তিনি এও জানান যে পরবর্তীতে মধ্যস্থতার মাধ্যমেই শেষ পর্যন্ত ওই যুগলের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।
বিচারক এম এল রঘুনাথ আরও বলেন, “বিবাহ বিচ্ছেদের মামলাগুলি সাধারণত একটু কঠিন হয়। সন্তানের কথা মাথায় রেখে অনেকক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত একসঙ্গে থাকতে রাজি হয়ে যায় স্বামী-স্ত্রী। তাদের সমস্যার কথা শুনে বিষয়গুলির গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করি। মানসিক সমস্যার পাশাপাশি শারীরিক চাহিদা মেটাতে না পারার মতো সমস্যাগুলিও বিবাহ বিচ্ছেদের কারণ হয়”।
বিচারকের কথায়, “৮০০-৯০০ মামলার মধ্যে কেবলমাত্র ২০ থেকে ৩০টি মামলা আমরা সমাধান করতে পারি। লোক আদালতে গড়ে ১১০টি বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা হয়। তারমধ্যে কেবলমাত্র ৩২টি মামলায় ফের যুগলের মিলন হয়েছে”।





