বরাবরই ভালো ছাত্রী সে। মাধ্যমিকেও ভালো ফল করেছিল। তাই ইচ্ছা ছিল সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করার। কিন্তু পারিবারিক অনটনের কারণে সে স্বপ্ন পূরণ হয়নি। তাই কলা বিভাগেই ভর্তি হয় সে।
কিন্তু তাতে কী! পড়াশোনা করে চমকেও দেয় সকলকে। এবছরের উচ্চমাধ্যমিকে ৪৯১ নম্বর পেয়ে অষ্টম স্থান অধিকার করেছে মৈত্রেয়ী নাথ। একই ধরণের গল্প মানালি চৌধুরীরও। সেও অষ্টম হয়েছে উচ্চমাধ্যমিকে। আর্থিক অভাবের জন্য নিতে পারে নি কোনও প্রাইভেট টিউশন।
পূর্ব বর্ধমানের গয়েশপুর গ্রামের বাসিন্দা মৈত্রেয়ী। পূর্ব বর্ধমানের সরেঙ্গা হাইস্কুলের ছাত্রী সে। মাধ্যমিকেও খুব ভালো করেছিল মৈত্রেয়ী। কিন্তু ইচ্ছা থাকলেও পারিবারিক অভাবের জেরে সায়েন্স নিয়ে পড়তে পারেনি সে। কিন্তু তার স্বপ্ন আটকে থাকেনি। কলা বিভাগে পড়াশোনা করে তাক লাগাল মৈত্রেয়ী।
তবে মৈত্রেয়ী ভবিষ্যতে কী হবে, তা নিয়ে এখনও ভেবে দেখে নি। তার এত ভালো ফলে খুশির হাওয়া বইছে গোটা পরিবারে। আত্মীয়-প্রতিবেশীদের শুভেচ্ছা উপচে পড়ছে। মেয়ের এই সাফল্যে মৈত্রেয়ীর বাবা তাপস নাথ জানান, “অর্থিক অবস্থা ভাল ছিল না তাই মেয়ের ইচ্ছে পূরণ করতে পারিনি। তবে তাতেও সে যা ফল করেছে তাতে খুব খুশি”।
মৈত্রেয়ী জানায় যে পরীক্ষায় ভালো ফল করতে কঠোর পরিশ্রম করেছে সে। প্রায় সারাদিন পড়াশোনা করেছে সে। এখন তার একটাই লক্ষ্য নিজের পায়ে দাঁড়ানো। ভালো চাকরি করে বাবা-মায়ের পাশে দাঁড়াতে চায় মৈত্রেয়ী। এর পাশাপাশি সেবামূলক কাজেও নিজেকে নিযুক্ত করতে চায় মৈত্রেয়ী।
অন্যদিকে, উচ্চমাধ্যমিকে অষ্টম স্থান অধিকার করেছে কৃষ্ণনগরের মানালি চৌধুরীও। তাঁর ইচ্ছা, সে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দেবে। পরিবারে অভাবের তাড়নায় কখনও প্রাইভেট টিউশন নিতে পারে নি মানালি। নিজেই নিজেকে তৈরি করেছে। চমক লাগিয়েছে সকলকে।
নিজের চেষ্টায় পড়াশোনা করেই আজ উচ্চমাধ্যমিকে অষ্টম হয়েছে মানালি। দিনরাত পড়াশোনার মধ্যেই ডুবে থাকত সে। কৃষ্ণনগর হোলি ফ্যামিলি গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রী মানালি। নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে চায় সে। তবে কীভাবে সেই স্বপ্ন তার পূর্ণ হবে, এখন সেই চিন্তাতেই রয়েছে মানালি।





