মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও উঠে এল দুর্নীতির অভিযোগ। এর জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে এবার মাদ্রাসা কমিশন তুলে দেওয়ার হুঁশিয়ারি শানালেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসায় এদিন আদালতে কমিশনকে কটাক্ষ করেন তিনি। এর পাশাপাশি কমিশনকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানাও করেছেন বিচারপতি।
প্রসঙ্গত, ৭ জন মামলাকারীর দাবী করেন যে ২০১৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মাদ্রাসা কমিশন যে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল তাতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ ছিল। কিন্তু বাস্তবে তেমনটা হয়নি। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা চাকরি পান নি। তবে প্রশিক্ষণহীনদের চাকরি দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে মাদ্রাসা কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও কোনও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ মামলাকারীদের।
আজ, মঙ্গলবার এই মামলার শুনানি ছিল। এদিন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় মাদ্রাসা কমিশনের আইনজীবীকে প্রশ্ন করেন যে কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা। কিন্তু তেমনটা হল না কেন? এই প্রশ্নের কোনও সদুত্তর অবশ্য মেলেনি মাদ্রাসা কমিশনের আইনজীবীর তরফে।
এরপরই বেশ ক্ষুব্ধ বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “মাদ্রাসা কমিশন নিয়ে এত অভিযোগ কেন? এভাবে চললে আমি মাদ্রাসা কমিশনই তুলে দেব”? এরপর মাদ্রাসা কমিশনকে তিনি ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। সেই জরিমানা ৭ আবেদনকারীর মধ্যে সমান ভাবে ভাগ দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতিদের বিচার্য বিষয় পরিবর্তন করা হয়েছে। আগে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে এসএসসি মামলার শুনানি হলেও, এখন তাঁর এজলাসে রয়েছে প্রাথমিক ও মাদ্রাসার মামলা। আর এই দুই মামলাতেই একের পর এক দুর্নীতির বিষয় সামনে আসছে।






