‘রুলিং পার্টি হয়ে গেলেই সব দোষ মাফ নাকি’, ২০০৬ সালে বিধানসভায় চেয়ার ভাঙার ঘটনার তথ্য চেয়ে রাজ্যকে ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

‘রুলিং পার্টি হ্যেব গেলেই কী সব মাফ নাকি? বিধানসভার ভিতরে চেয়ার ভাঙার ঘটনার কী অবস্থা’? রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর করা একটি মামলায় এভাবেই রাজ্যব সরকারকে তোপ দাগল কলকাতা হাইকোর্ট। বিধানসভার অন্দরে হুমকি দেওয়ার জন্য শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

সেই মামলা খারিজ করার আবেদন জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন শুভেন্দু। সেই মামলারই শুনানি ছিল আজ, বুধবার। এই শুনানিতেই ২০০৬ সালের ঘটনা মনে করিয়ে দেন বিচারপতি বিবেক চৌধুরী। সেই সময় বিরোধী শিবির ছিল তৃণমূল। আর সেই সময় তৃণমূল বিধায়করা বিধানসভায় ভাঙচুর চালিয়েছিলেন। সেই ঘটনায় কোনও অভিযোগ দায়ের হয়েছিল কী না, তা রাজ্যের আইনজীবীর কাছে জানতে চান বিচারপতি।

একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের কাছে রক্ষাকবচ পেয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। আজকের শুনানিতে সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন শুভেন্দুর পক্ষের আইনজীবী। এরপরই রাজ্যের তরফের আইনজীবী বলেন যে সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশ কেন দেখাচ্ছেন শুভেন্দুবাবু?

এই কথাতে ক্ষুব্ধ হয়েই বিচারপতি বলেন, “রুলিং পার্টি হলেই কি অগ্রাধিকার? বিধানসভার ভিতরের ঘটনা কেন আদালত দেখবে? রুলিং পার্টি হয়ে গেলেই কি সব মাফ? বিধানসভার ভিতরে চেয়ার ভাঙার কী অবস্থা? তখন আপনারা বিরোধী ছিলেন”।

বিচারপতি এদিন বলেন, বিধানসভার চেয়ারও হেরিটেজের অংশ। সেই সময় কোনও অভিযোগ দায়ের হয়েছিল কী না বা কোনও তদন্ত হয়েছিল কী না, তা জানতে চান বিচারপতি বিবেক চৌধুরী। এদিন বিচারপতি বলেন, “পুলিশ কমিশনারকে ডাকুন। ওনার কাছ থেকে ওই কেসের বর্তমান অবস্থা জেনে নেব। দুপুর দুটোয় জানতে চাই”।

বিধানসভার হয়ে সওয়াল করছিলেন অয়ন ভট্টাচার্য। এদিন তাঁকেই এ কথাগুলো বলেন বিচারপতি। অন্যদিকে, রাজ্যের পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী শ্বাসত গোপাল মুখোপাধ্যায়। তাঁকে বিচারপতি বলেন, “বিচারপতি হিসেবে নয় সাধারণ মানুষ হিসেবে জানতে চাই কী হল সেই কেসের”।

বলে রাখি, বিধানসভায় বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস, সৌমেন রায়, কৃষ্ণ কল্যাণী সহ একাধিক নেতাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে।

RELATED Articles