দশমবারের হাজিরা এড়ালেন অনুব্রত, হতে পারেন সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার, রক্ষাকবচ পেতে ভয়ের চোটে কী আগেভাগেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবেন কেষ্ট?

এই নিয়ে দশমবার তাঁকে তলব করেছিল সিবিআই (CBI)। গরুপাচার মামলায় (cattle smugling case) সোমবারের পর এবার আজ, বুধবারের হাজিরাও এড়িয়েছেন বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mandal)। আর এর জেরে সিবিআই বেশ কড়া পদক্ষেপ নিতে পারে তাঁর বিরুদ্ধে। এবার কী তবে আগেভাগেই রক্ষাকবচের জন্য সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) দ্বারস্থ হবেন তিনি?

আজ, বুধবার সিবিআই দফতরে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল অনুব্রত মণ্ডলের। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি নিজাম প্যালেসে হাজিরা দেন নি। তাঁর আইনজীবী সিবিআইকে জানান যে তাঁকে ১৪ দিন সময় দেওয়া হোক। অসুস্থতার কারণ দেখিয়েই এই সময় চেয়েছেন অনুব্রত। তবে এরই মধ্যে শোনা যাচ্ছে যে অনুব্রত এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারেন।

অনুব্রতর ঘনিষ্ঠ মহলের সূত্র অনুযায়ী, তৃণমূল নেতা সুপ্রিম কোর্টে রক্ষাকবচের জন্য আর্জি জানাতে পারেন। শীর্ষ আদালতে তিনি আবেদন জানাতে পারেমন যে তাঁকে যেন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, কিন্তু তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না।

তবে অনুব্রত যদি রক্ষাকবচ চান, তাহলে তার বিরোধিতা করতে প্রস্তুত সিবিআইয়ের আইনজীবীরাও। তাঁরা বিরোধিতা করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। সিবিআই বারবার অনুব্রতকে প্রভাবশালী বলে চিহ্নিত করেছে।  অন্যদিকে আবার চিকিৎসক চন্দ্রনাথ অধিকারী যে অভিযোগ এনেছেন যে অনুব্রত মণ্ডলের কথাতেই তিনি তাঁকে ‘বেড রেস্ট’ নেওয়ার পরামর্শ লেখেন। আর এর জেরে অনুব্রত যে প্রভাবশালীসেটা আরও একবার প্রমাণ হল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

বলে রাখি, গত সোমবার গরুপাচার মামলায় তৃতীয় অতিরিক্ত চার্জশিট পেশ করেছে সিবিআই। আসানসোলে সিবিআই বিশেষ আদালতে জমা দেওয়া সেই চার্জশিটে রয়েছে অনুব্রতের প্রাক্তন দেহরক্ষী সায়গল হোসেন-সহ ১১ জনের নাম। এরপর ধৃত সায়গলের জামিনও খারিজ করে দিয়েছে আদালত।

সিবিআআই সূত্রের খবর, সায়গল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে একাধিক তথ্য মিলিছে। সেই সূত্র ধরেই অনুব্রতকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান তাঁরা। কিন্তু বারবার হাজিরা এড়িয়ে যাচ্ছেন তৃণমূল নেতা। এবার কী তবে কেষ্ট আগেভাগেই গ্রেফতারির আশঙ্কা করছেন, এই নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

আরও অন্যান্য খবর