গতকাল, সোমবার রাতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টুইট করে আশ্বাস দিয়েছেন যে বন্যার কবলে পড়া পাকিস্তানকে সাহায্য করা হবে। আজ, মঙ্গলবার জানা গেল যে এক পাক মন্ত্রী ভারত সরকারের এক মন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। ইসলামাবাদের তরফে দিল্লিকে জানানো হয়েছে যে পাকিস্তান ভারতের থেকে খাবার আমদানি করতে চায়।
একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তরফে দাবী করা হয়েছে যে ভারতের তরফে ইসলামাবাদকে বলা হয়েছে পাঞ্জাব সীমান্ত দিয়ে সবজি, চাল, গম পাঠানোর বন্দোবস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। চলতি সপ্তাহেই এইসব খাদ্যসামগ্রী সেখানে পাঠানোর ব্যাপারে নিশ্চয়তা দিয়েছে দিল্লি।
পাকিস্তানে ইতিমধ্যেই বন্যার কারণে হাজার জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বালুচিস্তানের অবস্থা সবথেকে শোচনীয়। সেখানে বন্যার কারণে ২৩৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে বন্যার জেরে মৃত্যু হয়েছে ১৮৫ জনের। আবার পঞ্জাব প্রদেশে বন্যার জেরে ১৬৫ জনের প্রাণ গিয়েছে বলে খবর। পাক অধ্যুষিত কাশ্মিরেও বন্যার প্রকোপ পড়েছে। সেখানে ৩৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
পাকিস্তানের আবহাওয়া দফতরের তরফে জানানো হয়েছে যে শুধু ১-২৭শে আগস্ট পর্যন্ত ১৭৬.৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে সে দেশে। যা স্বাভাবিকের চেয়ে ২৪৭ শতাংশ বেশি। পাকিস্তান সরকার বিত্তশালীদের কাছে আবেদন জানিয়েছেন যাতে তারা বন্যা ত্রাণে মুক্তহস্তে দান করেন। ইসলামাবাদ মনে করছে, নাগরিক উদ্যোগ ছাড়া শুধু সেনাবাহিনী আর বিপর্যয় মোকাবিলা দল দিয়ে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব নয়।
পাকিস্তানের অর্থনৈতিক অবস্থা এমনিতেই তলানিতে। এর উপর এই বন্যা যেন এক মহাবিপদের মুখে দাঁড় করিয়েছে প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে। বন্যার কারণে চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিরাট অঙ্কের সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আদৌ কতটা সময় লাগবে, তা এখনও ঠিক নেই।
কিন্তু এর মধ্যে কোনও আশার আলোও দিতে পারছে না পাকিস্তানের আবহাওয়া দফতর। বৃষ্টি কবে থামবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তাদের পূর্বাভাস সেপ্টেম্বরের গোড়া পর্যন্ত বৃষ্টি চলতে পারে। এর জেরে অনেক এলাকাই যে নতুন করে বন্যার কবলে পড়বে, তেমনটার আশঙ্কাও রয়েছে।





