গতকাল, সোমবার দলের বিরুদ্ধে তোপ দেগে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ জহর সরকার (Jahar Sarkar)। পার্থ-অনুব্রতর গ্রেফতারি নিয়ে তৃণমূলের (TMC) একাংশের দুর্নীতি (corruption) প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন যে এসব দেখে তাঁর গা শিরশির করছে। তিনি এও বলেছিলেন যে এই পচা অংশকে কেটে বাদ দেওয়া দরকার। এবার তাঁর এই মন্তব্যের কারণে তাঁকে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায় (Saugata Roy)।
এই নিয়ে সৌগত রায় বলেন, “জহর সরকার তৃণমূলে আছেন কেন? সাহস থাকলে পদত্যাগ করুন। তাতে অবশ্য উনি লাকি হবেন। একটা পেনশন পাচ্ছেন, রাজ্যসভার পেনশনটাও পাবেন”।
তিনি আরও বলেন, “জহর সরকার জন্য রাজ্যসভার সাংসদ হওয়ার আগে একদিনের জন্য তৃণমূলের মিছিলে হাঁটেননি। কোনও স্যাক্রিফাইস (আত্মত্যাগ) নেই। উনি যখন দিল্লিতে সংস্কৃতিমন্ত্রকের সচিব ছিলেন, তৃণমূলের একটা উপকার করেননি”।
দমদমের সাংসদের কথায়, “এঁরা সব আত্মকেন্দ্রিক। নিজেদের স্বার্থে চলেন। সাংসদ হিসেবে যখনতখন প্লেনে যাবেন, মাসে দু’লক্ষ টাকা বেতন পাবেন, আর পার্টির খারাপ সময় এলেই সরে যাবেন”।
সৌগত রায় এও মনে করেন যে জহর সরকার যে ভাবে প্রকাশ্যে দল নিয়ে কথা বলেছেন তাতে তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তাঁর কথায়, “জহর সরকারকে এইসব কথা জনসমক্ষে বলার জন্য রাজ্যসভায় পাঠানো হয়নি। ভাল না লাগলে ছেড়ে দিন। আমাদের মুক্তি দিন। অন্য কাউকে উপনির্বাচনে জিতিয়ে রাজ্যসভায় পাঠাব”।
জহরবাবু বলেছিলেন যে তিনি দলের অন্দরে প্রশ্ন রেখেছিলেন যে এসব কী কেউ জানত না? এর উত্তরে কেউ কেউ তাঁকে বলেছিলেন কে এতটা জানা ছিল না। জহরবাবু এও জানান যে দলে সবসময় তাঁকে ডাকা হয় না। এমনকি তিনি এও অভিযোগ করেন যে কেউ কেউ নাকি তাঁকে চেপে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এর পাল্টা সৌগত রায় জানান যে গত ২১শে জুলাই দলের শেষ বৈঠক হয়। সেখানে জহরবাবু এই বিষয়ে কিছু বলেন নি।





