ফের নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধাক্কা খেল রাজ্য। টেট নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশকেই বহাল রাখল হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি সুব্রত তালুকদার ও বিচারপতি লপিতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ টেট দুর্নীতি মামলায় বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশকেই মান্যতা দিল ডিভিশন বেঞ্চ।
তবে এই ক্ষেত্রে সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশে ডিভিশন বেঞ্চ একটি বিষয় যোগ করেছে। ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে যে সিঙ্গল বেঞ্চের নজরদারিতেই সিবিআই তদন্ত চলবে। আর্থিক বেনিয়মের দিকটা খতিয়ে দেখা হবে। বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এই মামলার রিপোর্ট তলব করবেন বলেও জানানো হয়েছে।
এদিন এই শুনানিতে ডিভিশন বেঞ্চ জানায় যে ২০১৪ সালে টেট নিয়ে দুর্নীতি সে সম্পর্কে নানান সমস্যা সঠিকভাবেই তুলে ধরেছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। অতিরিক্ত যে ১ নম্বর করে দেওয়া হয়েছিল, সেই প্রেক্ষিতে কোনও নথি, সম্পূর্ণ মেধাতালিকা, ও ওএমআর শিট দিতে ব্যর্থ হয়েছিল বোর্ড। তাই ডিভিশন বেঞ্চের কথায়, সিঙ্গল বেঞ্চের রায় একেবারে সঠিক।
এদিন ডিভিশন বেঞ্চ জানায় যে ২৬৯ প্রার্থী চাকরি পেয়েছেন, তাদের চাকরির শুরুটাই তো ফ্রড। কেউ কেউ পরীক্ষা না দিয়েই চাকরি পেয়েছেন, কেউ আবার মধ্যস্থতাকারীকে টাকা দিয়ে চাকরি পেয়েছেন। এদিন এই সমস্ত বিষয় ডিভিশন বেঞ্চে আলোচিত হয়। এই সংক্রান্ত কোনও রিপোর্ট যতক্ষণ না আসছে, ততক্ষণ চাকরিতে পুনর্বহাল করা যাবে না বলেই জানাল ডিভিশন বেঞ্চ।
শিক্ষক নিয়োগ মামলায় বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে গিয়েছিল রাজ্য, প্রাথমিক শিক্ষা পর্যদ। মামলা করেছিলেন পর্ষদের অপসারিত সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যও। বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি শেষ হলেও, এত দিন রায় ঘোষণা স্থগিত ছিল।
প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে সিবিআই তদন্তের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় প্রাথমিক বোর্ড, মানিক ভট্টাচার্য সহ একাধিক পক্ষ। সেই মামলাতেই সিঙ্গল বেঞ্চের রায়কে মান্যতা দিল ডিভিশন বেঞ্চ।






