ব্লক সভাপতির (block president) সাংগঠনিক পদ পাইয়ে দেবেন বলেছিলেন তৃণমূল নেতা (TMC Leader)। কিন্তু প্রতিশ্রুতি রাখেন নি তিনি। পদ পাইয়ে দেওয়ার নামে মোটা টাকাও নিয়েছিলেন। সেই টাকা ফেরত চাইতে গেলে হুমকি দেন তৃণমূল নেতা। এমনই অভিযোগ উঠল করিমপুরের বিধায়ক বিমলেন্দু সিংহরায়ের (Bimalendu Sinha Roy) বিরুদ্ধে। বিধায়কের বিরুদ্ধে কৃষ্ণনগর পুলিশ সুপারের (police super) কাছে টাকা নেওয়ার অভিযোগ দায়ের করলেন তৃণমূলের এক কর্মী।
সূত্রের খবর, করিমপুরের ২ নম্বর ব্লকে তৃণমূল ব্লক সভাপতির পদ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে বিধায়ক বিমলেন্দু সিংহরায় ৭ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন এক তৃণমূল কর্মীর থেকে। এমনই অভিযোগ করেন হাসান আলি মণ্ডল নামের ওই এলাকারই এক প্রাক্তন সেনা কর্মী। কিন্তু কিছুদিন আগেই ওই ব্লকে নতুন ব্লক সভাপতির নাম ঘোষণা হয়ে গিয়েছে।
নিজে ঠকেছেন এটা জানার পরই বিধায়ক বিমলেন্দু সিংহরায়ের থেকে নিজের টাকা ফেরত চান হাসান মণ্ডল। কিন্তু অভিযোগ, টাকা ফেরত চাইলে তাঁকে নানান হুমকি দেন তৃণমূল বিধায়ক। এই সমস্ত ঘটনার কথা উল্লেখ করে গতকাল শুক্রবার ওই অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীর পরিবার কৃষ্ণনগর পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
যদিও নিজের দিকে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিমলেন্দু সিংহরায়। তাঁর দাবী, “সব মিথ্যা। হাসান আলির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমার বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণ করতে পারলে আমি সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক জীবন থেকে অবসর নেব। ওর মিথ্যে অভিযোগ করার পেছনে কারও কোনও ইন্ধন থাকতে পারে। এই মিথ্যা অভিযোগের জন্য কৃষ্ণনগর পুলিশ সুপার ও করিমপুর থানায় অভিযোগ করেছি”।
এদিকে আবার হাসান আলি মণ্ডলকে গ্রেফতার করে করিমপুর থানার পুলিশ। ওই প্রাক্তন সেনাকর্মীর অভিযোগ, “টাকা দিয়েছিলাম, ফেরত পায়নি। তাই কৃষ্ণনগর পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি। তবে টাকা দেওয়ার কোনও প্রমাণ আমার কাছে নেই। আইনে যা হবার তাই হবে। এই অভিযোগ করার ক্ষেত্রে কেউ আমাকে প্ররোচিত করেনি”।
এই বিষয়ে নদীয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি কল্লোল খাঁ বলেব, “অভিযোগ করলেই তো হয় না। অভিযোগকারীকে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি টাকা দিয়েছিলেন। তিনি যদি টাকা দেওয়ার কথা প্রমাণ করতে না পারেন, তাহলে প্রশাসন তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে”।





