টেট নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে এবার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল ইডির কাছে। পরীক্ষার আগেই টেট প্রশ্নপত্র নানান শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পৌঁছে যেত বলে অভিযোগ এসেছে ইডির কাছে। সেই তথ্য যাচাই করে দেখছেন ইডির আধিকারিকরা। অভিযোগ, এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি জানতেন মানিক ভট্টাচার্য। অন্যদিকে আবার, মানিক ঘনিষ্ঠ তাপস মণ্ডলের ৩৫টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের উপরও নজর রয়েছে ইডির। সেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
তাপস মণ্ডলের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে ৮টি মোবাইল। এই মোবাইলগুলি খতিয়ে দেখছেন ইডি আধিকারিকরা। তাপসের সঙ্গে মানিক ভট্টাচার্যের হোয়াটসঅ্যাপে কী কী কথা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে খবর। ইতিমধ্যেই তাপস মণ্ডলের চারটি এনজিও-র খোঁজ মিলেছে। এছাড়াও, আরও বেশ কয়েকটি সংস্থারও খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। এই এনজিও ও সংস্থাগুলির মাধ্যমেই কালো টাকা সাদা করা হত বলে অভিযোগ উঠেছে।
তদন্ত চলাকালীন উত্তর কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিটের একটি বহুতলের ফ্ল্যাটের সন্ধান পায় ইডি। এই বহুতলের মালিক বীরভূমের নলহাটির তৃণমূল নেতা বিভাস অধিকারী। তাঁর কাছ থেকে তাপস মণ্ডল শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের জন্য ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন বলে খবর। আবার বীরভূমে বিভাসবাবুর একাধিক বেসরকারি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বা বিএড কলেজ আছে জানতে পারে ইডি। সূত্রে খবর, তদন্তের প্রয়োজনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিভাস অধিকারীকে ইডি সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সের দফতরে তলব করেছে।
টেট দুর্নীতির মামলার তদন্ত করতে গিয়েই ইডির নজরে আসে যে জালিয়াতির আঁতুড়ঘর হল কিছু শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এই তদন্ত করতে গিয়েই ইডি আধিকারিকদের কাছে খবর আসে যে টেট পরীক্ষার আগেই ফাঁস হয়ে গিয়েছিল প্রশ্নপত্র।
অভিযোগ, মানিক ভট্টাচার্যের মদতেই তাঁর ঘনিষ্ঠদের শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পৌঁছে যেত এই প্রশ্নপত্র। তার আগে ওইসব কেন্দ্রের কর্মকর্তারা ছাত্রছাত্রীদের প্রাথমিক স্কুলে চাকরি দেওয়ার নাম করে তাদের থেকে টাকা নিতেন। এফ বদলে উত্তরপত্রে সঠিক উত্তর লিখে ভরাট করানোর ব্যবস্থা করা হত। ইডির কাছে এই সমস্ত তথ্য এসে পৌঁছেছে। এই তথ্যগুলি যাচাই করে দেখছেন ইডি আধিকারিকরা। এর জন্য যে ভুয়ো শিক্ষকদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে, তাদের জেরা শুরু হয়েছে।





