‘বুদ্ধবাবু জমি চোর ছিলেন’, সিঙ্গুর ইস্যু নিয়ে মমতার মন্তব্যের পর এবার ফেসবুকে আলোড়ন দেবাংশুর

সিঙ্গুর থেকে টাটা গোষ্ঠীকে (Tata Group) তিনি তাড়ান নি। বরং টাটা গোষ্ঠীকে সিপিএম তাড়িয়েছে। গতকাল, বুধবার শিলিগুড়ির বিজয়া সম্মিলনী থেকে এমন মন্তব্যই করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর সেই মন্তব্য রাজ্য-রাজনীতিতে শোরগোল ফেলেছে। সিপিএম (CPIM) তো বটেই, বিজেপিও (BJP) তাঁর এহেন মন্তব্যের বিরোধিতা করেছে। এবার এরই মধ্যে ফেসবুকে এক বিস্ফোরক পোস্ট করলেন তৃণমূল নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য (Debangshu Bhattacharya)।

গতকাল, বুধবার শিলিগুড়ি থেকে সিঙ্গুর জমি আন্দোলন নিয়ে মন্তব্য করে মমতা বলেন, “কেউ কেউ বাজে কথা বলছে, টাটাকে আমি তাড়়িয়েছি। আর টাটা চাকরি দিচ্ছে। টাটাকে আমি তাড়াইনি। সিপিএম তাড়িয়েছে। পলিটিক্যাল কথা এখানে বলতে চাই না। আপনারা লোকের জমি জোর করে দখল করতে গিয়েছিলেন। আমরা জমি ফেরত দিয়েছি। জায়গার তো অভাব নেই। আমি জোর করে কেন জমি নেব?‌ আমরা এত প্রোজেক্ট করেছি। কিন্তু জোর করে জমি তো আমরা নিইনি। আমি পরিষ্কার বলি এখানে যত শিল্পপতি আছে কোনও বৈষম্য নয়। আমরা চাই বাংলায় তাঁরা ইনভেস্ট করুন। এখানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করুন”

সিঙ্গুর আন্দোলন নিয়ে দলনেত্রীর এহেন মন্তব্যের পরই মাঠে নামলেন তৃণমূল যুবনেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য। ফেসবুকে এক দীর্ঘ পোস্ট করে ফের সিপিএমকে আক্রমণ করেন তিনি। লেখেন, “কদিন আগে নয়ডাতে একটি বিরাট বড় অট্টালিকা ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হল। সমস্ত টেলিভিশন চ্যানেলের লাইভ টেলিকাস্ট হল। সবাই চোখ মেলে দেখল, হু হু করে ধসে গেল সবটা। ওই বিল্ডিং ধুলিস্যাৎ হওয়ার জন্য দায়ী কে? সেই এলাকাবাসী, যারা বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছিল, নাকি সে, যে ওই বেআইনি নির্মাণ তুলেছিল? দু’‌ক্ষেত্রে দুই রকম মতামত হলে যে চলবে না কাকা!! কারণ সুপ্রিম কোর্ট যেমন বলেছিল নয়ডার ওই বিল্ডিং বেআইনি, তেমনই এই সুপ্রিম কোর্টই বলেছিল সিঙ্গুরের জমি অধিগ্রহণ বেআইনি। ঠিক যে কথা বলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। টাকা চুরিকে যদি ভদ্র ভাষায় বিশ্লেষণ করা হয়, তাকে ‘‌বেআইনিভাবে টাকা নেওয়া’‌ বলা যায়। তাই উল্টো ভাবে ‘বেআইনিভাবে জমি নেওয়া’‌কে সোজা ভাষায় জমি চুরি বলা চলে। সেই সূত্রে, সোজা ভাষায় বললে আমাদের বুদ্ধবাবু জমি চোর ছিলেন। শুনতে খারাপ লাগলেও এটাই সত্য”।

প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে সপ্তম বামফ্রন্ট সরকার প্রতিষ্ঠার অন্যতম স্লোগান ছিল শিল্পায়ন। কিন্তু বামফ্রন্টের তীব্র বিরোধিতার মুখে টাটার ছোট গাড়ির কারখানাকে স্থায়ী করতে পারেনি। মমতার দাবি ছিল, ৪০০একর জমি ফেরত দিতে হবে। অন্যদিকে তৎকালীন বামফ্রন্ট সে ব্যাপারে রাজি ছিল না। তথ্যকেন্দ্র থেকে রাজভবন একাধিক বৈঠকেও সিঙ্গুর জট খোলেনি। শেষমেশ টাটা সিঙ্গুর ছেড়ে গুজরাতের সানন্দে চলে যায় ন্যানো প্রকল্প নিয়ে।

বলে রাখি, ২০১৬ সালে সিঙ্গুর মামলার রায়ে সুপ্রিম কোর্টের তরফে বলা হয় যে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সরকার যেভাবে জমি অধিগ্রহণ করেছিল, তাতে পদ্ধতিগত ভুল ছিল। সেই জমি ফিরিয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে অনেকেরই মতে, ওই জমি আর চাষযোগ্য নয়। কারণ ওই জমির অনেকটা গভীরে কংক্রিট রয়েছে যা চাষের পক্ষে অনুপযোগী।

আরও অন্যান্য খবর