‘এখানে নাটক করছে, প্ররোচনা দিয়ে বিভ্রান্ত করে সস্তার রাজনীতি করছ’, টেট আন্দোলন প্রসঙ্গে সিপিএম-বিজেপিকে একযোগে আক্রমণ কুণালের

গতকাল মাঝরাতে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে সল্টলেক (Saltlake) চত্বর। টেট আন্দোলনকারীদের (TET protesters) জোর করে হটিয়ে দেয় পুলিশ। এই ঘটনায় উত্তপ্ত রাজ্য-রাজনীতি। এই নিয়ে সিপিএম (CPM) ও বিজেপির (BJP) তরফে রাজ্য সরকারকে তুলোধোনা করা হয়েছে। এবার এই বিষয় নিয়ে পাল্টা বিরোধীদের আক্রমণ শানালেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)।

এক ভিডিও বার্তায় কুণাল বলেন, “বিষয়টি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক। আদালতের নির্দেশ ১৪৪ ধারা এবং বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনের আওতাভুক্ত। ফলে এক্ষেত্রে আমাদের তরফে কোনও মন্তব্য নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকার পুরোপুরি গণতান্ত্রিক। এই সরকারের আমলে বহু শূন্যপদ তৈরি হচ্ছে, বহু নিয়োগ হচ্ছে। কেউ কোথাও কোনও ভুল করে থাকলে তা সংশোধন করা হচ্ছে। অন্যায় করলে শাস্তি হবে। মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন নিয়োগে যাতে দেরি না হয়”।

বিরোধীদের কটাক্ষ করে কুণাল বলেন, “একটা অংশ মামলার পর মামলা করে নিয়োগ আটকে রাজনীতি করতে চাইছে। ময়দান চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে ধরনা চলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থান আন্দোলনের মাধ্যমে। যা ন্যায্য সেই আন্দোলন তিনিও ভালোবাসেন। কিন্ত, যেখানে কোনও আইনি বিষয় রয়েছে বা প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ করলে সেই নিয়ে রাজনীতি করবে না তৃণমূল কংগ্রেস”।  

অন্যান্য রাজ্যের প্রসঙ্গ টেনে কুণাল ঘোষ বলেন, “সিপিএম এবং বিজেপি নেতারা কথা বলছেন। কিন্তু, তাদের কি কোনও নৈতিক অধিকার রয়েছে! প্রতিবেশী রাজ্য ত্রিপুরা, সেখানে শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে ১০ হাজারের বেশি শিক্ষকের চাকরি চলে গিয়েছে। সেখানে দায়ী হচ্ছে সিপিএম-বিজেপি। সেখানে শিক্ষকরা প্রতিবাদ করলে তাঁদের বিরুদ্ধে দমননীতি নেওয়া হয়েছে। তারাই এখানে নাটক করছেন। এটা গণতান্ত্রিক সরকার। এখানে ওসব কিছু হয় না। কিছু কর্মপ্রার্থীকে বিভ্রান্ত করে সস্তার রাজনীতি করছেন বিরোধীরা”।

প্রসঙ্গত, টেট আন্দোলনকারীদের আন্দোলন ভঙ্গ করেছে পুলিশ, এমনটাই অভিযোগ আনা হয়েছে বিরোধীদের তরফে। গতকাল মাঝরাতে টেট আন্দোলনকারীদের করুণাময়ী মোড় থেকে টেনে হিঁচড়ে হটিয়ে দেয় পুলিশ। কয়েকজনকে প্রিজন ভ্যানেও তোলা হয়। এ নিয়ে সরব হয়েছে সিপিএম-বিজেপি।

RELATED Articles