চাকরি (jobs) দেওয়ার নাম করে লোকজনের থেকে টাকা নেওয়া ও তারপর চাকরি না দেওয়া, এমন অভিযোগ সাম্প্রতিককালে নানান তৃণমূল নেতার (TMC Leader) বিরুদ্ধেই উঠেছে। নিয়োগ দুর্নীতির জেরে আপাতত জেলবন্দি রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee)। এই নিয়ে রাজ্য-রাজনীতিতে বেশ হইচই। আর এরই মধ্যে ফের এক একবার আরও এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠল।
ঘটনাটি ঘটেছে নন্দীগ্রামের আমদাবাদ ২ নম্বর অঞ্চলের ১৭৬ নম্বর রানিচক বুথে। অভিযুক্ত ওই তৃণমূল নেতার নাম সঞ্জু গুড়িয়া। জানা গিয়েছে, জল প্রকল্পে চাকরি করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এলাকার মানুষের থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নেন তিনি। কিন্তু সেই চাকরি তো হয়ই নি, লোকজনের টাকাও ফেরত দেন নি তৃণমূল নেতা। চাকরি না পেয়ে একাধিকবার টাকা ফেরত দেওয়ার দাবীও তোলেন এলাকার মানুষ। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি।
শেষ পর্যন্ত ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে এলাকাবাসীর। রেগে অভিযুক্ত সঞ্জু গুড়িয়াকে ইলেকট্রিক পোলের সঙ্গে বেঁধে পেটাল গ্রামবাসীরা। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় গোটা এলাকায়। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছয় নন্দীগ্রাম থানার পুলিশ। ক্ষিপ্ত জনতার হাত থেকে উদ্ধার করা হয় ওই তৃণমূল নেতাকে।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে এক অভিযোগকারী বলেন, “আমার কাছ থেকে ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা নেয় জল প্রকল্পে চাকরি দেওয়ার নাম করে। বলেছিল ১ থেকে দেড় মাসের মধ্যে চাকরি দিয়ে দেবে। তারপর ইন্টারভিউ হবে। নিয়োগ হয়ে যাবে। তারপর থেকে ২ বছর কেটে গেল। কিন্তু চাকরির দেখা নেই। ও রাণীচকের ১৭৬ নম্বর বুথের সভাপতি”।
অন্যদিকে মারমুখী জনতার সামনে নিজের ভুল স্বীকার করেন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাকে। তাঁর কথায়, “ও যেটা বলছে সেটা ঠিক। গ্রাম পঞ্চায়েতে আলোচনার পরে দলকে টাকা দেওয়া হয়। পার্টি ফান্ডেই গিয়েছে টাকা”।
এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে ফের শাসক দলকে একহাত নিতে একটুও দেরি করে নি বিজেপি। এই ঘটনায় বিরুলিয়ায় বিজেপির মন্ডল সভাপতি অরূপ জানা বলেন, “গোটা তৃণমূল দলটাই চোর ডাকাতে ভরে গিয়েছে। গোটা পশ্চিমবঙ্গজুড়েই এরা ছড়িয়ে আছে। পুরো দলটাই পচে গিয়েছে। এদেরকে দ্রুত দেশছাড়া করতে হবে”।





