‘বাবা কিছুই জানান নি’, দাবী সুকন্যার, কেষ্ট-কন্যার বয়ানকে হাতিয়ার করেই তৎপর সিবিআই, গরু পাচারকাণ্ডে আরও বড় বিপদে অনুব্রত

মেয়েকে একরকম প্রায় ধোঁয়াশাতে রেখেই নিজের কাজ চালিয়ে যেতেন অনুব্রত মণ্ডল। মেয়েকে কিছু না জানিয়ে তাঁর সই নিয়ে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে গরু পাচারের টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন বলে অভিযোগ জানান তদন্তকারীরা। তদন্তকারীরা জানান যে সুকন্যা দাবী করেছেন যে তাঁর অজান্তেই সমস্ত লেনদেন হয়েছে। সুকন্যার সেই বয়ানের উপর ভিত্তি করেই এবার গরু পাচার মামলায় এগোবে সিবিআই। অনুব্রতকেও ফের জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইডি।  

আইঞ্জিবিদের একাংশের মতে, সুকন্যা বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন। সুকন্যা যে বয়ান দিয়েছেন, তা যে অনুব্রতর বিরুদ্ধেই যাবে, তা বেশ স্পষ্ট। ইডি সূত্রের খবর, সুকন্যা সমস্ত বয়ান নিজের হাতে লিখেছেন। আর জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিও ফুটেজও রয়েছে তদন্তকারী আধিকারিকদের হাতে।

ইডি সূত্রে খবর, সুকন্যা জেরায় জানিয়েছেন যে আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। সবটাই দেখাশোনা করতেন তাঁর হিসাবরক্ষক। কেষ্ট-কন্যা আরও জানিয়েছেন যে তিনি কোনওদিন ব্যাঙ্কে গিয়ে নগদ টাকা জমা করেন নি। কোথায় কী সম্পত্তি রয়েছে, তাও জানেন না তিনি। সুকন্যার বয়ান অনুযায়ী, তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় প্রতিদিন যিনি টাকা জমা করতেন, তাকেও তলব করেছে ইডি। সেই ব্যক্তি, সুকন্যা ও তাঁর হিসাবরক্ষকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৭শে অক্টোবর দিল্লিত তলব করা হয় সুকন্যাকে। কিন্তু সেই সময় এক বান্ধবীর চিকিৎসার জন্য তিনি অন্য রাজ্যে যাওয়ায় হাজিরা দেন নি। এরপর ২রা নভেম্বর ফের তাঁকে তলব করা হয়। নিজের হিসাবরক্ষক মণীশ কোঠারিকে নিয়ে ইডির দফতরে হাজির হন তিনি। তিনদিন পরপর জেরা করা হয় সুকন্যাকে।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন যে সুকন্যা একাধিক সংস্থার ডিরেক্টর ও তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকা জমা হয়েছে ও লেনদেনও হয়েছে। তাঁর সংস্থার মাধ্যমে নানান চালকল কেনা হয়েছে। কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি রয়েছে সুকন্যার নামে। ২০১৫ সালের পর থেকে দুর্বার গতিতে তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ বেড়েছে। ২০১৮ সালের পর থেকে বোলপুরের নানান রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে নগদ টাকা জমা পড়েছে সুকন্যার। অথচ তিনি একজন প্রাথমিক স্কুল শিক্ষিকা।

RELATED Articles