বড়দিনের আড্ডায় কুণাল-সজল! বিজেপি নেতার অনুষ্ঠানে তৃণমূল নেতার উপস্থিতি নিয়ে জোর চর্চা, রাজনৈতিক সমীকরণ পাল্টাচ্ছে না তো?

একসময় বেশ ভালো সম্পর্ক ছিল তাদের দু’জনের মধ্যে। উত্তর কলকাতায় (Kolkata) দাদা-ভাই বলে পরিচিত ছিলেন তারা। কিন্তু ‘ভাই’ বিজেপিতে (BJP) যোগ দেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই দূরত্ব বাড়ে। কিন্তু বড়দিনের উৎসবে এবার কী সব রাগ-অভিমান গলে জল হল? একইসঙ্গে বড়দিনের আড্ডায় মজলেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) ও বিজেপি পুরপিতা সজল ঘোষ (Sajal Ghosh)। এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে ঢের।

গতকাল মানিকতলার উদয় সোশ্যাল সার্ভিস সেন্টারে বড়দিনের বিশেষ অনুষ্ঠান ছিল। এই অনুষ্ঠানের প্রধান উদ্যোক্তা এবং নিহত উদয়ের ভাই হলেন বিজেপি নেতা ও দলের পদচ্যুত উত্তর কলকাতা জেলা সভাপতি শিবাজী সিংহরায়। তিনি তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষকে কার্নিভালে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। রবিবার সন্ধ্যায় নৈহাটি ও কাঁকুড়গাছির কর্মসূচির পর রাতে কুণাল যান শিবাজীবাবুর আমন্ত্রণরক্ষায়। এটি তাঁর বাড়ির কাছেই। তখন ভরপুর গানবাজনা চলছে। সঙ্গে নৈশভোজ।

এদিন শিবাজী ও অন্যান্যরা কুণালকে স্বাগত জানান। এখানেই উপস্থিত ছিলেন বিজেপির পুরপিতা ও উত্তর কলকাতা পর্যবেক্ষক সজল ঘোষও। তৃণমূলে থাকাকালীন তিনি কুণাল ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ছিলেন। তবে এখন তিনি শুভেন্দু অধিকারীর অনুগামী। যে শুভেন্দুর সঙ্গে কী না কুণালের নিত্যদিন বাকযুদ্ধ চলে।

তবে এদিন শিবাজী, কুণাল ও সজলকে একসঙ্গে বসেই খোশমেজাজে আড্ডা দিতে দেখা যায়। কুণাল চা খেতে চাইলে সজল বলেন, “কুণালদা ফিস ফ্রাই ভালোবাসেন”। এদিন কুণালকে একটি গান গাইতেও বলেন সজল। কিন্তু গলা ভাঙার কথা বলে শেষ পর্যন্ত আর গান গাননি কুণাল। বর্ষীয়ান নেতা শিবাজীবাবুর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক কুণালের।

কুণাল বিজেপি নেতার অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ায় তা নিয়ে রাজ্য-রাজনীতিতে যে চর্চা হবেই, তা তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না। স্বাভাবিকভাবেই এই নিয়ে বেশ জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে কুণালের কথায়, “এটি অরাজনৈতিক মঞ্চ। পার্টি যার যার, উৎসব সবার। আর শিবাজীদা যদি বিজেপি নেতা হয়েও আমাকে আমন্ত্রণের সৌজন্য দেখাতে পারেন, তাহলে পালটা সৌজন্য দেখানোর মানসিকতা আমরাও রাখি”।

অন্যদিকে, সজল ঘোষ বলেন, “শিবাজীদার আমন্ত্রণে এসেছি। গৃহকর্তা কাকে কাকে আমন্ত্রণ করবেন, সেটা তাঁর বিষয়। কুণালদা এসেছিলেন, দেখা হয়েছে”। আবার শিবাজী বলেন, “কুণাল তো এলাকার ছেলে। কতদিনের সম্পর্ক। একটু বড় করে বড়দিনের অনুষ্ঠান করলাম, তাই ওকে আমন্ত্রণ করেছিলাম। তিনজন কিছুক্ষণ গল্প হল। এসব ব্যক্তিগত, রাজনীতির সম্পর্ক নেই”।

আরও অন্যান্য খবর