‘ছ্যাবলামি করা হচ্ছে, তৃণমূল যদি চায়… গলা টিপে দেবে ওদের’, মমতার সামনে বিজেপি কর্মীদের ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান প্রসঙ্গে বিস্ফোরক ফিরহাদ

আজ, শুক্রবার হাওড়া স্টেশনে ছিল বাংলার প্রথম ‘বন্দে ভারত এক্সপ্রেস’-র (Vande Bharat Express) উদ্বোধন। এদিন এই অনুষ্ঠানের সূচনার আগেই যেন তাল কাটে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সেখানে পৌঁছতেই বিজেপি কর্মীদের একাংশ ‘জয় শ্রীরাম’ (Jai Shri Ram) স্লগান তুলতে শুরু করে। তা নিয়ে বেশ বিরক্ত শাসক শিবির। সেই ঘটনার সমালোচনা করলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)।

এদিন এই ঘটনার পর বিশেষ মেজাজ না হারালেও বেশ গম্ভীর হয়ে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব, কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুভাষ সরকার, রাজ্যপাল সি ভি বোস আনন্দ তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। তবে এদিন এরপর আর মঞ্চে ওঠেন নি মমতা। মঞ্চের নীচে দর্শকাশন থেকেই বক্তব্য রাখেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর মায়ের প্রয়াণে শোকজ্ঞাপন করেন।

এই ঘটনার পর ফিরহাদ হামিক বলেন, “রামকে অপমান করছে। নিশ্চিতভাবে মন্দিরে, বাড়িতে পবিত্র হয়ে তাঁর নাম নেওয়া উচিত। কিন্তু উত্যক্ত করার জন্য, রেষারেষি করার জন্য, ছ্যাবলামি করার জন্য রামের নাম নেওয়া উচিত নয়। মুখ্যমন্ত্রীর সামনে যে অসভ্যতা করেছে, তাতে যদি তৃণমূল চায়, ভরিয়ে দেবে, তাদের গলা টিপে দেবে। কিন্তু আমরা সৌজন্য দেখাচ্ছি। বিজেপি দলটা সৌজন্যের যোগ্যই নয়। মুখ্যমন্ত্রী তো নিজে হিন্দু এবং পুজো করেন। এটা নিয়ে ওনার সামনে ছ্যাবলামি করা হচ্ছে। এই করে ওনাকে অপমান করছে না, রামকে অপমান করছে”।

এই প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কলাইকুণ্ডার বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “উনি কলাইকুণ্ডাতে যা করেছিলেন, এখানেও তাই করেছেন। উনি বিরোধী দলনেতাকে স্বীকার করেন না। বক্তব্য রাখার সময় উনি বলছেন জনপ্রতিনিধি। আমার কাছে হারের কথা উনি ভুলতে পারেননি। ঠিক একই কাজ কলাইকুণ্ডায় করেছিলেন। আজও ড্রামাটা একইভাবে করলেন। উনি যতদিন রাজনীতিতে থাকবেন, ততদিন ভুগতে হবে”।

বলে রাখি, ঘূর্ণিঝড় যশের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে কলাইকুণ্ডায় মমতা ও মোদী বৈঠককে ঘিরে বেশ বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। তৎকালীন মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে বৈঠকে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু বৈঠক সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট জমা দিয়ে বেরিয়ে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে মমতার দাবী ছিল যে তিনি প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়েই বৈঠক ছেড়েছিলেন। তা নিয়েও কম বিতর্ক হয়নি।

আরও অন্যান্য খবর