প্রাথমিকে চাকরি দেওয়ার নামে ১৭ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ শিক্ষকের, প্যানেল বাতিল হতেই ভোলবদল, টাকা ফেরত চাইলে প্রাণনাশের হুমকি

সম্প্রতি রাজ্যে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। এই দুর্নীতিতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন শাসক দলের একাধিক নেতা। একাধিক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে চাকরি দেওয়া বা চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। এবার এমনই এক অভিযোগ উঠল খোদ এক শিক্ষকের বিরুদ্ধেই।
কোচবিহার জেলার মাথাভাঙা পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বাপ্পা মালাকার। প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরির জন্য টেট পরীক্ষা দিয়েছিলেন। পাশ করলেও মেলেনি চাকরি। তাঁর দাবী, ২০১৬ সালে টেট পাশ করেও চাকরি পান নি তিনি। বছর তিনেক আগে রাজগঞ্জ ব্লকের আমবাড়ির এক হাইস্কুলের শিক্ষক এক এজেন্টকে নিয়ে আসেন তাঁর বাড়িতে। ওই শিক্ষক কোচবিহারের শীতলকুচির বাসিন্দা।

ওই শিক্ষক বাপ্পাকে বলেছিলেন চাকরি তিনি তাঁকে পাইয়ে দেবেন। এর জন্য ১৭ লক্ষ টাকা দিতে হবে। তা দিয়েওছিলেন বাপ্পা। শুধু বাপ্পাই নন, জানা গিয়েছে, আপার প্রাইমারিতে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে আরও বেশ কয়েকজনের থেকে টাকা নেন ওই শিক্ষক। কিন্তু এরইমধ্যে নিয়োগ দুর্নীতি ফাঁস হতেই বাতিল হয়ে যায় প্যানেল। তাতেই মাথায় হাত পড়ে যায় বাপ্পা মালাকারদের।

বাপ্পা জানান, তিনি শীতলকুচিতে ওই শিক্ষকের বাড়িতেও যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন রাজগঞ্জ ব্লকের ঘোঘোমালি এলাকায় নতুন বাড়ি কিনেছেন। সেই বাড়িতে টাকা ফেরত চাইতে যান বাপ্পা ও আরও কয়েকজন। দু’পক্ষের আলোচনার পর ওই শিক্ষক টাকা ফেরাবেনও বলেছিলেন। কিন্তু তা দেননি। পরে টাকা চাওয়াতে প্রাণনাশের হুমকিও দেন ওই শিক্ষক, এমনটাই অভিযোগ করেন বাপ্পা ও বাকিরা।

বাপ্পা মালাকারের কথায়, “আমি টেট পাশ করেছি ২০১৬ সালে। আপার প্রাথমিকের জন্য আমি টাকাও দিই। সবই হয়ে গিয়েছিল। এখন কোর্ট থেকে সব বাতিল করে দিয়েছে। আমি ওনাকে বললাম বাড়ি জমি বিক্রি করে টাকা দিয়েছি। সেটা ফিরিয়ে দিন। আমার চেনা পরিচিত আরও কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। প্রায় ১৭ লক্ষ টাকা দিয়েছি আমি। তিন বছর হয়ে গেল। চাকরি করে দেবেন বলেছিলেন। এরপর তালিকা বাতিল হয়ে গেল। উনি এজেন্ট নিয়ে এসেছিলেন আমার বাড়িতে। বলেছিলেন, তুমি তো ভাল ছাত্র, রেজাল্ট ভাল। চাকরি নিতে চাইলে যোগাযোগ কোরো। আমিও যোগাযোগ করি। নিজেকে নিঃস্ব করে সব দিয়েছি। এখন ভাড়া বাড়িতে থাকি। উনি টাকা দিচ্ছেন না। এদিকে ফোন বন্ধ, বাড়িতে গেলে পাই না”।

গতকাল, সোমবার দুপুরে বাপ্পারা ওই শিক্ষকের বাড়ি গেলে জানতে পারেন যে তিনি স্কুলে গিয়েছেন। স্কুল থেকে ফেরার পথে ওই শিক্ষকের পথ আটকান তারা। কিন্তু সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন অভিযুক্ত শিক্ষক। এরপরই খবর দেওয়া হয় আমবাড়ি ফাঁড়িতে। বাপ্পা ও বাকিরা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তি গ্রেফতার করা হয়েছে ওই শিক্ষককে। আজ, মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে তোলা হতে পারে। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জে।

RELATED Articles