‘রেফার রোগ’ জারি হাসপাতালে! সারারাত ধরে চার সরকারি হাসপাতালে ঘুরেও মিলল না ঠাঁই, চিকিৎসার গাফিলতিতে এনআরএসে মৃত্যু যুবকের

স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বারবার নানান অভিযোগ উঠে আসে। আর এসবের মধ্যে সবথেকে বেশি যে অভিযোগ আসে, তা হল রোগীকে রেফার করা। ফের তেমনই এক ঘটনার জেরে মৃত্যু হল বছর ২৬-এর এক যুবকের। গোটা রাত ধরে শহরের একাধিক সরকারি হাসপাতালে ঘুরে ভোরবেলা এনআরএস হাসপাতালে মৃত্যু হল যুবকের।

জানা গিয়েছে, নিহত ওই যুবকের নাম মেঘনাদ চন্দ্র। টালিগঞ্জের বাসিন্দা ছিলেন তিনি। মৃতর পরিবারের কথায়, ফুটবল খেলতে গিয়ে  কিছুদিন আগে কুঁচকিতে চোট পেয়েছিলেন মেঘনাদ। এরই মধ্যে গতকাল বাইক থেকে পড়ে যান তিনি। ফের আঘাত পান। যন্ত্রণায় ছটপট করতে থাকেন তিনি। সন্ধ্যে থেকেই তাঁর পরিবার হন্যে হয়ে একের পর এক হাসপাতালে ঘুরতে থাকেন তাঁকে নিয়ে। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসার গাফিলতির জেরে মৃত্যু হয়েছে তাদের ছেলের।

পরিবার সূত্রে খবর, গতকাল, সোমবার বাইক থেকে পড়ে গিয়েছিলেন মেঘনাদ। পায়ে আঘাত লাগে তাঁর। তাঁকে প্রথমে বাঙ্গুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা হয়। এরপর তাঁকে এসএসকেএমে পাঠানো হয়। সেখান থেকে পাঠানো হয় চিত্তরঞ্জনে। সেখানে বলা হয় যে যুবকের অস্ত্রোপচার করতে হবে। এর জন্য এনআরএসে নিয়ে যেতে বলা হয়। আজ, মঙ্গলবার এনআরএসে নিয়ে গেলেও দীর্ঘক্ষণ মেঘনাদকে চিকিৎসা না ফেলে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। পরবর্তীতে মৃত্যু হয় যুবকের। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলেছে মেঘনাদের পরিবার। যদিও এ নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এখনও কিছু জানায় নি।

নিহতের এক আত্মীয় বলেন, “আমরা ভোর ৫টায় এনআরএসে যাই। সেই থেকে দাঁড়িয়ে লিফটের সামনে। যিনিই আসছেন, স্লিপ দেখছেন, বলছেন আরেকজন এসে দেখবেন। এই করতে করতে ৭টা সাড়ে ৭টা বেজে যায়। ডাক্তার এলেন, একটু দেখেই চলে গেলেন। এরপর বেডে নিলেও ডাক্তার ফেলে রেখে দেয়। গুরুত্বই দেননি। চোখের সামনে মরেই গেল”।

এই ঘটনায় চিকিৎসক-সাংসদ শান্তনু সেন বলেন, “গতকাল দুর্ঘটনা ঘটেছে। আজ সকালে এনআরএসে নিয়ে আসা হয়। এনআরএসে চিকিৎসাও শুরু হয়। পিজিটিরা দেখেন, ভর্তির ব্যবস্থা করা হয়। তাঁকে ওটিতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। বাড়ির লোক কাগজপত্র তৈরি করছিলেন। সেইসময় দুর্ভাগ্যজনকভাবে মারা যান। যে কোনও মৃত্যুই খুব দুঃখের। আশা করব আগামীদিনে এই ঘটনাগুলো কমবে। অযথা কাউকে রেফার করা হলে তাও বন্ধ হবে”।

এই ঘটনা সম্পর্কে চিকিৎসক সংগঠনের নেতা মানস গুমটা বলেন, “একজন এমার্জেন্সি রোগীকে এতগুলো হাসপাতাল ঘুরতে হবে কেন? তবে সরকার বারবার বলছে, রেফার করা যাবে না। আমরা বলব, হাসপাতালগুলোর কী পরিকাঠামো তা একটু গিয়ে দেখে আসুক। আদেশনামা প্রকাশ করে দিয়েই তারা ক্ষান্ত হয়ে যাচ্ছে। অথচ জানেই না কতজন চিকিৎসক আছেন, কতজন স্বাস্থ্যকর্মী আছেন, কী পরিকাঠামো। অনেক সময় অনেক চিকিৎসক বাধ্য হচ্ছেন রোগীকে রেফার করতে। সব দায় চিকিৎসকদের দিকে চাপিয়ে দেওয়া, এই প্রবণতাও বন্ধ হওয়া দরকার”। তিনটি হাসপাতাল ঘুরেও কেন যুবকের মৃত্যু হল, তা নিয়ে তদন্ত দরকার বলেও জানান তিনি।

RELATED Articles