বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই রাজ্য-রাজনীতিতে ফের দলবদলের জল্পনা চলছে। বিজেপি বিধায়ক তথা অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায় (Hiran Chatterjee) তৃণমূলে (TMC) যোগদান করছেন, এমনই বিতর্ক বারবার উঠে আসছে। সত্যিই কী তবে পদ্ম শিবির ছেড়ে ঘাসফুল শিবিরে যেতে চলেছেন খড়গপুরের বিধায়ক? এই জল্পনার মধ্যেই এবার বিতর্কিত মন্তব্য করে বসলেন বারাসাতের তৃণমূল বিধায়ক চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী (Chiranjit Chakraborty)।
সামনেই রয়েছে পঞ্চায়েত নির্বাচন। এই আবহেই তৈরি হয়েছে হিরণের দলবদলের জল্পনা। কিছুদিন আগেই শোনা যায় যে হিরণ ও আরও এক বিজেপি বিধায়ক তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে দেখা করতে গিয়েছিলেন।
আবার সম্প্রতি হিরণের একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে যেখানে দেখা গিয়েছে তিনি একটি সোফায় বসে রয়েছেন। আর ব্যাকড্রপে তৃণমূলের লোগো। তাঁর সঙ্গে একই সোফায় দেখা যায় তৃণমূল নেতা অজিত মাইতিকেও। সেই থেকেই জল্পনা আরও জোরালো হয় যে হিরণ হয়ত সত্যিই তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন। তবে এই বিষয়ে কোনও বাক্যব্যয় করেন নি বিজেপি বিধায়ক নিজে।
এসবের মধ্যেই গতকাল, শনিবার বারাসাত ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে এক রক্তদান শিবির অনুষ্ঠান উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল বিধায়ক চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী। হিরণের এই দলবদলের জল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, “জল্পনা থেকে কল্পনা হয়, তারপরেই হয় সম্ভাবনা হয়। হিরণ আমাদের ছেলে ছিল। গিয়েছে, আবার ফিরে আসবে। এটাই হবেই। কেন ওখানে থাকবে? তৃণমূল যদি পাঁচ মিনিটের জন্য দরজা খুলে দেয় তবে বিজেপি পার্টিটাই উঠে যাবে। কিন্তু, দরজা খোলা হয়নি। হিরণকেও এখনই যোগদান করানো হবে না। কোনও ঘোষণাও নেই। আগে সম্ভাবনা হোক, তারপর ভাবা যাবে। আমি দাঁতনে গিয়েছিলাম। তখন একজন আমাকে বলেছে যে হিরণ ফিরে আসতে চায়”।
তৃণমূল বিধায়কের এহেন মন্তব্যের পর স্বাভাবিকভাবেই আরও বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে। এর পাশাপাশি এদিন ‘দিদির দূত’ নিয়েও বিরোধীদের কড়া বার্তা দেন চিরঞ্জিৎ। বলেন, “বিরোধীরা কারও কাছে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে না বলেই এই কথা বলছে। বিরোধীদের লোকজন নেই, চিরকাল যা বলে তাই বলছে। দিদির দূত হয়ে আমরা মানুষের প্রয়োজনের কথা শুনতেই যাচ্ছি। মানুষের কাছে গিয়ে জানা যাবে, তারা প্রত্যেকে চার থেকে পাঁচটা সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছে। তাছাড়াও মানুষের যদি কোনও অসুবিধা থাকলে তারা বলতেই পারে। আমরা এমনিই মানুষের পাশে থাকি। তাদের যা প্রয়োজন দেওয়া হবে”।






