হোটেলে কাজ করেই কোনওরকমে দিন গুজরান করেন। রোজগার কম হওয়ায় স্ত্রীও ছেড়ে গিয়েছেন। বাড়তি একটু লাভের আশায় অনেকদিন ধরেই কাটতেন লটারি। কিন্তু কখনও ৫০০ বা কখনও ১০০০, এমনই টাকা জিতেছেন তিনি। সর্বাধিক ১২ হাজার টাকা জিতেছেন।
কিন্তু তা বলে একেবারে ১ কোটি টাকা যে জিততে পারেন, এমনটা কখনও ভাবতেই পারেন নি মালদার বৈষ্ণবনগরের লক্ষ্মীপুর চন্দ্রমোহন টোলা এলাকার সঞ্জিত মণ্ডল। এমন খবর পেয়ে রীতিমতো চোখ কপালে ওঠার জোগাড় হয় তাঁর। খবর জানাজানি হতেই গোটা এলাকাতেও শোরগোল পড়ে যায়। তাঁর বাড়ির সামনে ভিড় জমান অনেকেই। আর তাতেই বাড়ে ভয়।
ভাগ্য যাতে বদলায়, সেই কারণেই লটারির টিকিট কেটেছিলেন সঞ্জিতবাবু। কিন্তু তাতে যে এক কোটি টাকা জিতে যাবেন, তা কোনওদিনও কল্পনাও করতে পারেন নি তিনি। লটারিতে টাকা জেতার খবর পেয়েই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন সঞ্জিতবাবু। বৈষ্ণবনগর থানা থেকে এসে তাঁকে নিরাপত্তা দিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এত টাকা দিয়ে ঠিক কী করবেন, তা ভেবে কূলকিনারাই পাচ্ছেন না সঞ্জিতবাবু।
সঞ্জিতবাবু জানান, “আগে অনেকবার লটারি কেটেছি। অল্প কিছু টাকাও পেয়ছিলাম। তিন বছর ধরে লটারি কাটছি। সর্বোচ্চ ১২ হাজার টাকা পেয়ছিলাম। তবে আজ ১ কোটি টাকা পেয়েছি। বাড়িতে আমি এখন একাই থাকি। এদিন এত টাকা জেতার খবর শুনে ভয় পেয়ে যাই। ততক্ষণে অনেকেই আমার সঙ্গে দেখা করতে আসতে শুরু করেছে। আরও চিন্তা বাড়ে। তারপরেই পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছি”।
উল্লেখ্য, এমন ঘটনা এই প্রথমবার নয়। এর আগেও বাংলায় কোটি টাকার লটারি জিতে ভাগ্য বদলাতে দেখা গিয়েছে অনেক গরীব মানুষের। সেই তালিকায় রয়েছেন রাজমিস্ত্রি থেকে অনেক দিন আনা দিন খাওয়া মানুষ। এবার ভাগ্য বদলে গেল মালদার সঞ্জিতেরও।





