ভোটের মুখে মহেশতলায় আগু*নে ছাই স্বপ্ন! নিখোঁজ শিশু, পুড়ে গেল নথি ‘নিরাপত্তা দিতে পারে না, ভোট চাইতে আসবে কেন?’ তবে কি প্রশাসনিক গাফিলতিতেই বাড়ল এই বিপর্যয়?

দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলার আক্রা–সন্তোষপুর এলাকার বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছাই হয়ে গেল বহু মানুষের স্বপ্ন। হঠাৎ করে লাগা আগুন মুহূর্তের মধ্যে গ্রাস করে নেয় গোটা এলাকা। ঘন কালো ধোঁয়া, চিৎকার আর আতঙ্কে ভরে ওঠে চারদিক। এই ঘটনায় বহু পরিবার এক নিমেষে সর্বস্ব হারিয়েছে, আর সেই সঙ্গে সামনে এসেছে প্রশাসনিক তৎপরতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন।

ঘটনাটি ঘটে দুপুর প্রায় ১টা ৪০ মিনিট নাগাদ। স্থানীয়দের দাবি, হঠাৎ করেই আগুন লাগে এবং মুহূর্তের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ে। তখন অনেকেই ভাত খাচ্ছিলেন বা খেতে বসেছিলেন। কিন্তু কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে যে যেভাবে পারেন ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। কারও কিছু নিয়ে বেরোনোর সুযোগই হয়নি। চোখের সামনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় বহু বছরের গড়ে তোলা ঘরবাড়ি ও সামান্য সঞ্চয়।

ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, দমকলে খবর দেওয়া হলেও সময়মতো সাহায্য পৌঁছয়নি। এক বাসিন্দার কথায়, “দমকলের দু’টি ইঞ্জিন এসেছিল, কিন্তু তার মধ্যে একটিতে জলই ছিল না।” এই অভিযোগ ঘিরে ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে এলাকায়। আগুন নেভাতে দেরি হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বেড়ে যায় বলে দাবি তাঁদের। ঘটনাস্থলে তখন আতঙ্ক, কান্না আর হতাশার চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

এদিকে, এলাকাবাসীর আরও দাবি, এই অগ্নিকাণ্ডে কয়েকজন শিশুর খোঁজ মিলছে না। কেউ বলছেন ৫ জন, কেউ বলছেন ৬ থেকে ৭ জন বাচ্চা নিখোঁজ। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই আতঙ্ক আরও বাড়ে। পাশাপাশি, বহু গুরুত্বপূর্ণ নথি যেমন ভোটার কার্ড-সহ অন্যান্য কাগজপত্র পুড়ে যাওয়ায় সামনে আসন্ন ভোটকে ঘিরেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এক বাসিন্দার কথায়, “ভোটের আগে সব কাগজপত্র পুড়ে গেল, এখন কীভাবে ভোট দেব?”

আরও পড়ুনঃ “দিদি যেখানে, আমিও সেখানে…” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ভোট প্রচারে ইমন! ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ বিতর্ক ভুলে, সরাসরি তৃণমূলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ গায়িকার!

এই ঘটনার পর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের বক্তব্য, নিরাপত্তা দিতে না পারলে ভোট চাইতে আসার অazধিকার নেই কারও। এক বাসিন্দা সরাসরি বলেন, “আসুক ভোট চাইতে… আমাদের নিরাপত্তা দিতে পারে না… না মোদী, না দিদি।” এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, এই অগ্নিকাণ্ড শুধু ক্ষয়ক্ষতির নয়, মানুষের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভকেও সামনে নিয়ে এসেছে। এখন প্রশাসনের তরফে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেটাই দেখার।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles