ডি বাপি বিরিয়ানির দোকানের আড়ালে চলছে মধুচক্র! বিস্ফোরক অভিযোগ ক্ষিপ্ত আমজনতার, বন্ধ করে দেওয়া হল দোকান

ডি বাপি বিরিয়ানি, শহরতলির নামকরা এক প্রসিদ্ধ বিরিয়ানির দোকান। বেশ নামডাক রয়েছে এই দোকানের। এবার ফের একবার খবরের শিরোনামে উঠে এল এই দোকানের নাম। ডি বাপি বিরিয়ানি দোকানের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ এলাকাবাসীর। আর সেই নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তারা। শাটার নামিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয় দোকান। এই নিয়ে এলাকায় বেশ উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে আসে পুলিশ।

মধ্যমগ্রামে ডি বাপি বিরিয়ানির দোকানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওই দোকানে সন্ধ্যে নামতেই প্রচণ্ড জোরে বক্স বাজিয়ে চলে গান। আর এই তীব্র আওয়াজের জেরে জেরবার এলাকাবাসী। অভিযোগ বারবার বারণ করা সত্ত্বেও কোনও লাভ হয়নি। এলাকাবাসীর কথায়, পুরসভা ও প্রশাসনকে এই নিয়ে তারা অভিযোগ জানিয়েছেন কিন্তু তাতেইও মেলেনি ফল।

এত জোরে সাউন্ড বক্স বাজিয়ে গান চালানোর জেরে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। তাদের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনাতেও ব্যাঘাত ঘটে বলে অভিযোগ তোলেন তারা। শব্দদূষণের অভিযোগ তুলে গত মঙ্গলবার দোকানের সামনে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখান এলাকাবাসীরা। দোকানের শাটার নামিয়ে দেওয়া হয়। দোকান বন্ধ করার হুমকিও দেন স্থানীয়রা।

শুধুমাত্র শব্দদূষণই নয়, বায়ু দূষণের অভিযোগও তুলেছেন এলাকাবাসীরা। তাদের অভিযোগ, কাঠের চুলায় বিরিয়ানি রান্না হয়, এর জেরে বায়ুদূষণ ঘটে। এলাকার পরিবেশ নষ্ট হয়। কাঠের জ্বালের জেরে চারিদিকে ধোঁয়া-ছাই উড়তে থাকে। তারা এও অভিযোগ করেন যে দোকানের কর্মীরা খুবই খারাপ ব্যবহার করেন কিছু বললে।

তবে সবথেকে যে বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে ডি বাপি বিরিয়ানির দোকানের বিরুদ্ধে, তা হল এই দোকানের আড়ালে নাকি চলছে মধুচক্র। এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ওই দোকানের কাছেই একটা ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছেন দোকানের মালিক। আর সেখানেই নাকি রমরমিয়ে চলে মধুচক্র। তাঁর কথায়, তাদের কাছে প্রমাণও রয়েছে। এই নিয়ে পুলিশে অভিযোগ জানানোর কথা বলেন তিনি। ওই বাসিন্দার কথায়, দোকানের মালিক নিজেই জানিয়েছেন যে পুলিশে অভিযোগ জানিয়ে লাভ নেই কারণ পুলিশ নাকি তাদের ‘পকেটে’।

দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করেও যখন লাভ হয়নি তখন ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে এলাকাবাসীর। আর গত মঙ্গলবার বিক্ষোভ দেখান তারা দোকানের সামনে। যদিও দোকানের মালিকের পাল্টা দাবী, তাঁর ব্যবসা বন্ধ করার জন্য ষড়যন্ত্র করে এমন করছে এলাকাবাসী ও আরও অন্যান্য ব্যবসায়ীরা। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সেখানে পৌঁছয় মধ্যমগ্রাম থানার পুলিশ। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

RELATED Articles