পর্ষদের ‘কনফিডেনশিয়াল সেকশনে অর্থাৎ গোপনীয় বিভাগে টেটের উত্তরপত্রে কারচুপি চলত। গতকাল, বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় এমনই দাবী করেন পর্ষদের প্রাক্তন সচিব রত্না ভট্টাচার্য। তিনি জানান যে সেই গোপনীয় বিভাগে যাতায়াত করতেন তৎকালীন পর্ষদ সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য। তিনি এও জানান যে গোপনীয় বিভাগে উত্তরপত্র প্রস্তুতকারীদের যাওয়ার অধিকার ছিল। একথা শুনেই ক্ষুব্ধ হন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বেশ ধমকের সুরেই সিবিআই-কে বলেন যে এই বিষয়ে কেন তারা এখনও কিছু জানতে পারছে না।
এর পাশাপাশি বিচারপতি আরও জানতে চান যে উত্তরপত্র প্রস্তুতকারীদের সঙ্গে মানিক ভট্টাচার্যের কী এমন ‘প্রেম’ ছিল যে তিনি গোপন বিভাগে যেতে পারতেন। এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে আগামী ১০ই ফেব্রুয়ারি রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি।
মানিক ভট্টাচার্য যখন পর্ষদের সভাপতি ছিলেন, সেই সময় সচিব ছিলেন রত্না ভট্টাচার্য। সেই কারণে তাঁর সাক্ষ্য নেয় আদালত। এদিন তাঁর কাছে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় জানতে চান, ২০১৪ সালের টেটের ভিত্তিতে ২০১৬ সালের নিয়োগের প্যানেল তৈরি হয়নি কেন? এর জবাবে রত্না বলেন, “পর্ষদের গোপন বিভাগ থেকে আমরা ৮টি প্যানেল পেয়েছিলাম। তার কোনওটাই অতিরিক্ত প্যানেল নয়। মানিক ভট্টাচার্যই এ বিষয়ে সব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন”।
তিনি আদালতের কাছে আরও জানান, “এস বসু রায়চৌধুরী কোম্পানির প্রতিনিধি (উত্তরপত্র তৈরির বরাত দেওয়া হয়েছিল যে সংস্থাকে) এবং প্রয়াত গৌতম মুখোপাধ্যায় ছিলেন ওই বিভাগের সদস্য”। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় ওই উত্তরপত্র তৈরি সংস্থার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান। সাক্ষ্যগ্রহণের শেষে বিচারপতি রত্না ভট্টাচার্যকে বলেন, “আপনাকে অনেক কিছু বলতে হবে আদালতের কাছে”। পর্ষদের প্রাক্তন সচিব বলেন, তিনি যা জাননে তা বলতে তাঁর কোনও অসুবিধা নেই।
সিবিআই-কে কার্যত ধমক দিয়ে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “মানিক ভট্টাচার্যের সঙ্গে উত্তর়পত্র প্রস্তুতকারী সংস্থার কিসের এত প্রেম তা জানার চেষ্টা করুন”।





