রাজ্যের নানান স্কুলে শিক্ষাকর্মীর সংকট ক্রমেই বাড়ছে। একেই উত্তরপত্র বিকৃতির জেরে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে গ্রুপ ডি-র ১,৯১১ প্রার্থীর চাকরি বাতিল হয়েছে। তাদের সুপারিশপত্র বাতিল করে নতুন নিয়োগের জন্য ১,৪৪৪ জনের তালিকা প্রকাশ করে স্কুল সার্ভিস কমিশন। এর মধ্যে ৪০ জনকে শূন্যপদে নিয়োগ করার জন্য কাউন্সেলিংয়ে ডেকেছিল কমিশন।
কিন্তু সেই কাউন্সেলিংয়ে এলেনই না অর্ধেক চাকরিপ্রার্থীই। আর এই ঘটনার জেরে বেশ উদ্বিগ্ন কমিশন। যদিও শুক্রবার ওই চাকরি বাতিল হওয়া ওই ১,৯১১ জনের শূন্যপদে নতুন নিয়োগের কাউন্সেলিং স্থগিত রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে প্রশ্ন উঠেছে যে পরবর্তী শুনানিতে যদি সুপ্রিম কোর্ট স্থগিতাদেশ তুলেও নেয়, তাহলেও কী ১,৯১১ জনের শূন্যপদে এত প্রার্থী মিলবে?
সূত্রের খবর, গ্রুপ-ডি পদে কাউন্সেলিংয়ে সুপ্রিম কোর্ট স্থগিতাদেশ না দিলে সোমবারই আরও ১৫০ জনকে ডাকার প্রস্তুতি নিয়েছিল কমিশন। কিন্তু প্রথম দফায় ৪০ জনের মধ্যে মাত্র ২১ জন কাউন্সেলিংয়ে হাজির হয়েছিলেন। অনুপস্থিত ১৯ জনের মধ্যে মাত্র একজন কমিশনকে চিঠি দিয়ে জানান, তিনি ইতিমধ্যে রেলে চাকরি পেয়েছেন। কিন্তু প্রশ্নটা হল, বাকি ১৮ জনের কী হল
এদিকে, ধর্মতলায় যে নানান স্তরের ওয়েটিং লিস্টে থাকা প্রার্থীরা ধর্নায় বসে রয়েছেন প্রায় দু’বছর ধরে। কমিশনের প্রশ্ন, তাহলে চাকরিপ্রার্থীরা কাউন্সেলিংয়ে পৌঁছলেন না কেন?
কমিশনের গ্রুপ সি-ডি ওয়েটিং চাকরিপ্রার্থী মঞ্চর সভাপতি প্রসেনজিৎ দাসের বক্তব্য, “আমাদের অবস্থান-ধর্না রবিবার ২৭৫ দিনে পড়বে। আমরা কমিশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করে গ্রুপ-ডি’র শূন্যপদের সমসংখ্যক প্রার্থীকে এক লপ্তে কাউন্সেলিংয়ে ডাকার আর্জি জানিয়েছিলাম। তবে উনি বলেছেন, আদালতের অনুমতিসাপেক্ষে ধাপে ধাপে নিয়োগ প্রক্রিয়া হবে”।
বিকাশ ভবনের কর্তারা জানান, এর আগেও উচ্চপ্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়ায় টেটে সফল পাঁচ হাজার প্রার্থী ২০১৯ সালে ভেরিফিকেশনে হাজির হননি। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতেও প্রথম দফার নিয়োগ-প্রক্রিয়ায় ১২০০-র বেশি প্রার্থী সফল হয়েও অনুপস্থিত ছিলেন। এদের অধিকাংশই লিখিত পরীক্ষা ও ইন্টারভিউ শেষে চূড়ান্ত তালিকায় নাম উঠলেও কাউন্সেলিংয়ে আসেননি।
ফের গ্রুপ-ডি পদে কাউন্সেলিংয়ে চাকরিপ্রার্থীদের গরহাজিরায় SSC-র চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার বলেন, “আমি বিস্মিত”।





