নিয়োগ দুর্নীতিতে ধরপাকড় জারি। এবার ইডি-র জালে নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ প্রোমোটার অয়ন শীল। প্রায় ৩৭ ঘণ্টা তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদের পর রবিবার গ্রেফতার করা হয় অয়ন শীলকে। তাকে সিজিও কমপ্লেক্সে আনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ইডি সূত্রে দাবী, নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ এই অয়ন শীল প্রযোজনা সংস্থার আড়ালেই বিশাল প্রোমোটিংয়ের ব্যবসার জাল ফেঁদেছিলেন। গত শনিবার বিকেল থেকে রবিবার গভীর রাত পর্যন্ত অয়ন শীলের ভাড়া করা অফিস ও লাগোয়া ঘরে তল্লাশি চালায় ইডি। তাতে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে বলে খবর।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবী, প্রোমোটিং ব্যবসার আড়ালে সল্টলেকের অফিসে নিয়োগ দুর্নীতির কারবারও চালাতেন অয়ন। তার অফিস থেকে প্রায় চারশো ওএমআর শিট উদ্ধার হয়েছে বলে খবর। এছাড়াও মিলেছে প্রচুর অ্যাডমিট কার্ডের কপি। সাতটি কম্পিউটার থেকে বিপুল পরিমাণ টাকার লেনদেনের হিসাব পাওয়া গিয়েছে। প্রায় দশটি নানান ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সন্ধান মিলেছে। শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারীদের দুর্নীতি ছাড়াও নানান পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতিতে যে অয়ন সরাসরি যুক্ত ছিলেন, সেই বিষয়েও ইডি বেশ কিছু প্রমাণ পেয়েছে।
এই লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ৬০ কোটি টাকা ছাড়াতে পারে বলে অনুমান ইডি-র। এই লেনদেনের মধ্যে নিয়োগ দুর্নীতির টাকা কতটা, তা জানার জন্য জেরা করা হয় অয়নকে। এই দুর্নীতিতে অয়নের সঙ্গে কুন্তল ও শান্তনুর সঙ্গে যোগাযোগ নিয়েও তদন্ত চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ইডি প্রাথমিকভাবে জেনেছে প্রায় ৪০টি জায়গায় প্রোমোটিং করেছেন অয়ন।
এছাড়াও, টলিউডের একাধিক ছবিতে প্রযোজনা করে কালো টাকা সাদা করেছিলেন অয়ন। ধারণা, সেই সূত্র ধরেই অয়ন শীলেরও টলিপাড়ার তারকাদের সঙ্গে পরিচিতি ছিল। কুন্তলের মতো তিনি কোনও তারকাকে টাকা দিয়েছিলেন কী না, সেই নিয়েও জেরা করা হয় অয়নকে।
তার অফিসের ড্রয়ার, জামাকাপড়ের আলমারি, খাটের তলা, আলমারির ভিতর থেকে প্রায় চারশো ওএমআর শিট, বহু অ্যাডমিট কার্ডের কপি, বৈদ্যুতিন নথি ও অন্যান্য নথিও উদ্ধার করেছে ইডি। একজন প্রোমোটারের অফিস থেকে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির নথি উদ্ধারে উঠেছে প্রশ্ন। এছাড়াও উদ্ধার হয়েছে প্রচুর কাগজের টুকরো বা ‘চিট’। সেই চিটে টাকার পরিমাণ ও হিসাব লেখা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এছাড়াও, কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক থেকে নানান পুরসভার প্রচুর বিজ্ঞাপন পেয়েছে ইডি। কম্পিউটারে চাকরিপ্রার্থীদের নাম ও বিবরণও রয়েছে বলে খবর। হুগলি ও অন্যান্য জেলার পুরসভা ও অন্যান্য সরকারি দফতরে নিয়োগের জন্য অয়ন বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়েছেন বলেই মনে করা হচ্ছে।






