নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে এই মুহূর্তে রাজ্য ও রাজনীতি দুই-ই উত্তাল। একাধিক দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছে শাসক দলের একাধিক নেতার। এর জেরে দল বেশ অস্বস্তিতে। এরই মধ্যে এবার বাম জমানায় চিরকুটের সুপারিশে চাকরি নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও নির্দেশ দিয়েছেন যে বাম জমানায় চিরকুটের সুপারিশে যাদের চাকরি হয়েছে সেসবের যেন পোস্টমর্টেম করা হয়। এবার এই প্রসঙ্গ নিয়ে রাজ্য সরকারের সমালোচনা করলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
গতকাল, রবিবার পঞ্চায়েত ও হলদিয়া পুরসভার নির্বাচনে দলের রণকৌশল ঠিক করতে দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা-নেত্রীদের নিয়ে তমলুক ও হলদিয়াতে জোড়া অভ্যন্তরীন বৈঠক করেন সেলিম- সহ দলের অন্যান্য রাজ্য ও জেলা নেতৃত্ব। এই বৈঠকেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী চিরকুট প্রসঙ্গে মুখ খোলেন মহম্মদ সেলিম।
তিনি বলেন, “মমতা ব্যানার্জি, ব্রাত্য বসু, পার্থ চ্যাটার্জিরা শিক্ষা সংস্থাগুলিকে এমন করেছে, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতি কোন পর্যায়ে গেছে বোঝা যাচ্ছে। এই যে লুঠের রাজত্ব, সাম্রাজ্য এটা সর্বগ্রাসী। আর তাকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য এখন বলছে বাম আমলে কোথায় চিরকুটে চাকরি হয়েছিল খুঁজে বের করবে”।
সেলিমের দাবী, বর্তমান সরকারের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি রয়েছে। তিনি বলেন, “এখনও পর্যন্ত যে কটা পরীক্ষা করেছে তার ওএমআর শিটগুলি কোথায় গেলো, কারা নষ্ট করল তা কেউ স্বীকার করছে না কেন? প্রতিদিন যখন ইডি সিবিআই ডাকছে, আদালত যখন গালাগাল করছে তারপরও কি তৃণমূলের একটাও নেতা মন্ত্রী বলছে অন্যায় হয়েছে? মুখ্যমন্ত্রী কি বলেছে ভুল হয়েছে, ভবিষ্যতে করব না? বলতে পারবে না। কারণ, দুর্নীতি করবে না অথচ তৃণমূল থাকবে এটা হতে পারে না”।
সেলিম আরও বলেন, “পুরসভা, পঞ্চায়েতগুলিতেও দুর্নীতি রয়েছে। সে জন্য ভোট লুট করতে হয়েছিল। গত ১১ বছর ধরে তৃণমূল টাকা-পয়সা লেনদেন, জমি-জায়গা লেনদেন, খুনোখুনি, লুঠতরাজ ছাড়া অন্য কিছু করেনি”।





