নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে চারিদিকে এখন রব উঠেছে। নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee) ও তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) দাবী করেছেন যে এই নিয়োগ দুর্নীতিতে যুক্ত রয়েছেন সুজন চক্রবর্তী (Sujan Chakraborty), দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) ও শুভেন্দু অধিকারীরাও (Suvendu Adhikari)। এরই মাঝে বর্ষীয়ান বামনেতা বিমান বসুর ভূয়সী প্রশংসা করতে শোনা গেল শুভেন্দুকে। আর সেই মন্তব্যের পাল্টা খোঁচা দিলেন তৃণমূল রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ।
বর্ষীয়ান বামনেতার প্রশংসা করে শুভেন্দু বলেন, “বিমান বসু এখনও নিজের হাতে কাপড় কাচেন। পার্টি অফিসে থাকেন”। এরই পাল্টা দিয়ে কুণালের খোঁচা, “শুভেন্দু নাকি সিপিএম বিরোধী নেতা ছিল। এখন একার দম শেষ। এখন সিপিএমকে গুডবুকে নেওয়ার জন্য সিপিএম ভালো, সিপিএম নেতারা ভালো। এসব বলতে হচ্ছে”।
কুণালের কথায়, “শুভেন্দুর মুখ থেকে আমি বিমান বসুকে চিনতে চাই না। বিমান বসু বর্ষীয়ান, শ্রদ্ধেয় নেতা। সাংবাদিকতার সৌজন্যে আমি ছোটবেলা থেকে তাঁকে চিনি। যেসব ইস্যুতে সিপিএম, বিমান বাবুরা অভিযুক্ত সেই অংশটা নিশ্চয়ই বলা হবে। তার মানে ব্যক্তিগতভাবে বিমানবাবুকে অশ্রদ্ধা করার সম্পর্ক নেই”।
পার্থ চট্টোপাধ্যায় গতকাল অভিযোগ করেছিলেন, নিয়োগ দুর্নীতিতে শুভেন্দু যুক্ত। তাঁর এই মন্তব্যের ঠিক ১৮ মিনিট আগেই একটি টুইট করে এই একই দাবী করেন কুণাল। টুইটে তিনি লিখেছিলেন, “শিক্ষায় নিয়োগ বিতর্ক: দিলীপ ঘোষ, শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্য, সুজন চক্রবর্তী ও আরও কয়েকজন চাকরির সুপারিশ করেছিলেন কি? তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে অনুরোধ করেছিলেন কি? তদন্ত হোক”।
কুণাল ও পার্থর মুখে একই দিনে একই মন্তব্য শুনে শুভেন্দুর দাবী, এই নিয়ে চক্রান্ত চলছে। তিনি বলেন, “বুধবার বিকেলে প্রেসিডেন্সি জেল সুপারের ঘরে পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর আইনজীবী ছিলেন। জেলের সিসিটিভি জেল সুপারের মোবাইল দেখা হোক”।
যদিও শুভেন্দুর এই চক্রান্তের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, “যার মনে কালি সে সবসময় অন্যের ব্যাপারে চক্রান্ত দেখে। শুভেন্দু যখন বলে এরপরে অমুকের বাড়ি সিবিআই-ইডি যাবে। ইডিকে দিয়ে অমুককে তুলিয়ে আনব। সেগুলো কি সিবিআই-ইডির ডিরেক্টরের বাড়িতে শুভেন্দু বসে ঠিক করে। কোনও চক্রান্তের বিষয়ই নেই”।
বিরোধী দলনেতাকে চ্যালেঞ্জ করে কুণাল বলেন, ত“আমি শুভেন্দু অধিকারীকে চ্যালেঞ্জ করছি। সিসি ক্যামেরা আছে। শুভেন্দু প্রমাণ করে দেখাক এরকম কোনও ঘটনা ঘটেছে। আগেই তো সাংবাদিক বৈঠক করে প্রকাশ্যে বিষয়টা বলেছি। সেটাই টুইট করেছি”।
তবে যাকে নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে এত বাকবিতণ্ডা, সেই বামনেতা বিমান বসু শুভেন্দুর কথায় কী প্রতিক্রিয়া দিলেন। বিমান বসু স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “আমার নাম কেন নিল জানি না। আরএসএস পরিচালিত বিজেপির কোনও কর্মসূচিতে আমরা নেই”।






