আর অনিদ্রায় কাটবে না রাত, এবার শহরে এল ঘুমপাড়ানি যন্ত্র, চোখে ঘুম নামবে নিমেষে

এবার আর অনিদ্রায় রাত্রিযাপন নয়। এবার থেকে ঘুম হবে স্বাচ্ছন্দ্যের ও ঝরঝরে। এসএসকেএম হাসপাতালে আনা হল ঘুমপাড়ানি যন্ত্র। হাসপাতালের ইনস্টিটিউট অফ সাইকিয়াট্রিকের তরফে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে অক্টোবর পর্যন্ত এই ঘুমপাড়ানি যন্ত্রের দু’টি বেডই বুক। যারা বুক করেছেন, তারা এই বেডে ঘুমোবেন তিনদিনের জন্য।

লক্ষ টাকা খরচ করে এসএসকেএমের ইনস্টিটিউট অফ সাইকিয়াট্রিকের তরফে এই দুটি যন্ত্র আনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এটিই হচ্ছে ঘুমপাড়ানি যন্ত্র। নাম ‘পলিসমনোগ্রাফি’। ঠিক কী কারণে কারোর ঘুম আসছে না, তা বিশ্লেষণ করে এই যন্ত্র। এই যন্ত্রের একটি বিশেষ গুণ হল রাতে বিছানায় শোওয়ার পরই কিছুক্ষণের মধ্যেই অকাতরে ঘুমিয়ে পড়বেন ওই ব্যক্তি। যন্ত্রটি তখন নিজের মতো কাজ করতে থাকেন।

এপ্রিলের প্রথম সকালে ঘুম থেকে উঠে এক ব্যক্তি চিকিৎসককে জানান, “অনেকদিন পর ঝরঝরে লাগছে। তিনদিনে যেন তিনমাসের ঘুম হল”। শুনে চিকিৎসক বলেন, “এবার থেকে বাড়িতে নিয়ম মেনে চলবেন। আর সমস‌্যা হবে না”।

ইনস্টিটিউট অফ সাইকিয়াট্রি’র অধির্কতা ডা. অমিত ভট্টাচার্য এই বিষয়ে জানান, “অনিদ্রায় ভোগা মানুষের সংখ‌্যা ক্রমশ বাড়ছে। দিনভর শারীরিক ও মানসিক চাপের পর ঘুম না হলে পরদিন ভাল করে কাজ করা যায় না। ঘুমের ঘাটতি মেটাতে এন্তার বাসে-ট্রেনে ঘুমিয়ে পড়েন অনেকে। এই যন্ত্রে ঘুম কেন আসে না এটা যেমন বিশ্লেষণ করা হয় তেমনই বিছানায় শোওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে শরীরের কোন রাসায়নিক ঘুম আনতে অনুঘটকের কাজ করে তারও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ করে দেয় এই যন্ত্র”।

কীভাবে কাজ করে এই পলিসমনোগ্রাফি?

অমিত ভট্টাচার্যের কথায়, “টানা ঘুমের জন‌্য কয়েকটি শর্ত দরকার। প্রথমত, রোগীর শরীরে স্বাভাবিক অক্সিজেন সরবরাহ হচ্ছে কি না? ঘুমের সময় যদি অক্সিজেনের ঘাটতি হয় অথবা নাক ডাকে বুঝতে হবে অক্সিজেনের ঘাটতি হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, উচ্চ রক্তচাপ, হাই সুগার বা ডায়াবেটিস থাকলে রোগীর টানা ঘুম হয় না। বারবার উঠতে হয়। আবার ঘরে-বাইরে টানা তীব্র মানসিক চাপ থাকলে দুশ্চিন্তায় ঘুম হয় না”।

হাসপাতালের অন্য এক কনসালটেন্ট জানান, “অনিদ্রায় ভোগা রোগীর বুক ও মস্তিষ্কের সঙ্গে যন্ত্র জুড়ে দিলে ম‌্যাগনেটিক ওয়েভের মাধ‌্যমে বিশ্লেষণ করে ঘুমের সময় সব অঙ্গ স্বাভাবিক কাজ করছে কি না? যেখানে অসুবিধা হবে, সেই জায়গা রেকর্ড হবে। পরে নাক ডাকার সমস‌্যা হলে ইএনটি এবং পালমোনলজিস্টের পরার্মশ নিতে হবে। তবে ঘুমের ওষুধ যতটা সম্ভব বাদ দিতে হবে”।

RELATED Articles