গতকাল, সোমবার সন্ধ্যাটা কার্যত অভিশপ্তই ছিল তৃণমূলের কাছে। এদিন নির্বাচন কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় যে তৃণমূল আর জাতীয় দল নয়। সর্বভারতীয় তকমা হারায় তৃণমূল। আর এরপর থেকেই এই নিয়ে খোঁচা দিতে কসুর করছে না কোনও বিরোধী দলই। এবার এই মিয়ে আসরে নামলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁর কথায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন আপাতত মুলতুবি রইল।
প্রতিদিনের মতো আজ, মঙ্গলবারও প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে রাজ্যের নানান ইস্যু নিয়ে মুখ খোলেন দিলীপ ঘোষ। এদিন তৃণমূলের সর্বভারতীয় তকমা চলে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কোনও-কোনও রাজ্যে তৃণমূল একবার-দুবার ভোট পেয়েছিল। ওরা ভেবেছিল আর পাঁচটা পার্টির মতো হবে। তবে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস যে ধরনের দুর্নীতি হিংসা ,মারামারি করছে এর থেকে গোটা ভারতের লোক তৃণমূলের আসল রূপ জেনে গিয়েছে। কোথাও ভোট দিচ্ছে না। গোয়া এবং ত্রিপুরা,মণিপুর ও অসমে প্রচুর টাকা খরচা করেছেন নির্বাচনের জন্য। কিন্তু কোথাও ভোট পাননি। স্বাভাবিকভাবে ভোটের পার্সসেন্টটেজ কমে গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই তকমা চলে গেল”।
দিলীপের কথায়, তৃণমূলকে এখন রাজ্যেই নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য লড়াই করতে হবে। তিনি বলেন, “দুর্নীতির জন্য কেউ আর তৃণমূলকে ভোট দেয় না। সারা দেশে এদের কোনও প্রভাব নেই। এখন জাতীয় দলের তকমা হারিয়ে পশ্চিমবঙ্গেই অস্তিত্বের লড়াই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন শেষ। এবার সর্বভারতীয় পার্টি হওয়ার স্বপ্ন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন, দিল্লি জেতার স্বপ্ন আপাতত মুলতুবি রাখতে হবে। ওই দলের প্রতীকটাও উঠে যাবে”।
বিজেপি সাংসদের এহেন মন্তব্যের পাল্টা দেওয়া হয়েছে তৃণমূলের তরফেও। তৃণমূল মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদার পাল্টা খোঁচা দিয়ে বলেন, “জাতীয় দলের তকমা হারানোর বিষয়টা নিয়ে তৃণমূল মোটেই এত সহজে পিছু হঠবে না। আইনি পথে হেঁটে এর নিষ্পত্তি করা হবে। সুতরাং, এখনই তৃণমূলের ধাক্কা বলে আনন্দ পাওয়ার কিছু নেই”।
বলে রাখি, নির্বাচন কমিশনের সিম্বল অর্ডার সেকশন ৬বি অনুযায়ী, কোনও দলকে যদি জাতীয় দলের তকমা পেতে হয়, তাহলে তিনটি শর্তের মধ্যে একটি শর্ত পূরণ করতেই হবে। এক, ওই দলকে লোকসভা নির্বাচনে কমপক্ষে তিনটি রাজ্য থেকে ভোটে লড়তে হবে আর দেশের মোট আসনের অন্তত ২ শতাংশ ভোট পেতে হবে।
দুই নম্বর শর্ত হল, লোকসভা নির্বাচনে কমপক্ষে ৪টি রাজ্য থেকে ৬ শতাংশ ভোট পেতে হবে ও এক বা তার বেশি রাজ্য থেকে ৪টি করে আসন পেতে হবে। আর তৃতীয় শর্ত হল, ৪ বা তার বেশি রাজ্যে ওই দলকে রাজ্যদলের তকমা পেতে হবে। এই তিনটি শর্তের মধ্যে যে কোনও একটি শর্ত পূরণ করলেই জাতীয় দলের তকমা জুটবে কোনও রাজনৈতিক দলের। কিন্তু এই তিন শর্তের মধ্যে একটি শর্তও তৃণমূলের দিকে ছিল না। সেই কারণে সর্বভারতীয় তকমা ঘুচল তৃণমূলের।





