চুরি করতে এসে হাতেনাতে ধরা পড়ল চোর, বাড়ির দাওয়ায় বসিয়ে চোরকে জামাই আদর করে মাছের ঝোল-লাউ চিংড়ি খাওয়ালেন গৃহকর্ত্রী

চোর চুরি করতে এসে ধরা পড়ে গেলে তাকে মারধর, পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া, এমন ঘটনাই সাধারণত ঘটে থাকে। কিন্তু চুরি করতে এসে ধরা পড়ে গেলেও তাকে কিছুই বললেন না গৃহকর্ত্রী। উল্টে চোরকে জামাই আদর করে দাওয়ায় বসিয়ে ভাত, কচুর শাক, লাউ চিংড়ি, মাছের ঝোল খাওয়ালেন তিনি। এমন ঘটনা  হতবাক করল সকলকে। ঘটনাটি ঘটেছে মাল ব্লকের চেল কলোনিতে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, চুরি করে জিনিসপত্র সমেত ধরা পড়ে চোর। তার নাম অমর সাহানি। এলাকার বাসিন্দারা চোরকে মারতে গেলে বাধা দেন গৃহকর্ত্রী জ্যোৎস্না বর্মণ। চোরের হাতের বাঁধন খুলে দেন তিনি। তারপর ঘটে অবিশ্বাস্য কাণ্ড।

চোরকে বাড়ির বারান্দায় বসিয়ে থালা ভর্তি ভাত, মাছের ঝোল, কচুরশাক, ডাল, লাউ চিংড়ি খেতে দেন গৃহকর্ত্রী। এমন ঘটনা দেখে তাজ্জব বনে যান এলাকার বাসিন্দারা। এরকম কিছু যে ঘটবে তা ভাবতেও পারেননি তারা। চরকে মেরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে, এটাই দস্তুর। কিন্তু সেখানে কী না এমন পাত পেড়ে খাওয়াদাওয়া।

এই বিষয়ে গৃহকর্ত্রী জ্যোৎস্না বর্মণ বলেন, “ওই যুবক বারবার বলছিল খিদের জ্বালায় চুরি করেছি। তাই ওর খিদে মেটানোর জন্য পেট ভরে খাওয়ালাম। ওই যুবক চোর অবশ্য টাকা ফেরত দিলেও সোনার চেনটি ফেরাতে পারেনি। তাই একটি ছোট ঘরে ওকে আটকে রেখেছিলাম। পরে খবর পেয়ে পুলিশ আসে। তাকে নিয়ে যায়”। মাল থানার পুলিশ গ্রেফতার করে ওই চোরকে। সোনার চেনটি উদ্ধার করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

জানা গিয়েছে, ওই চোর বস্তার মধ্যে সমস্ত জিনিসপত্র ভরে নিয়ে পালাচ্ছিল। সেই সময় এক স্থানীয় বাসিন্দার সামনে পড়ে যায় সে। ওই ব্যক্তি বস্তা খুলে দেখেন তাতে চুরির সামগ্রী ভর্তি। তাতে পাড়ার মহিলা জ্যোৎস্না বর্মণের স্ট্যাম্প সাইজ ছবিও ছিল।

এরপরই চোরকে পাকড়াও করে জ্যোৎস্না বর্মণের বাড়িতে নিয়ে যান ওই ব্যক্তি। চোরকে সেখানে বেঁধে রাখা হয়। জ্যোৎস্না অন্যের বাড়িতে রান্নার কাজ করেন। তিনি খবর পান যে তাঁর দরজার তালা ভেঙে চুরি হয়ে গিয়েছে আর চোর ধরাও পড়েছে। বাড়িতে ফিরে তিনি দেখেন তাঁর সোনার চেন, নগদ টাকাও উধাও। পরে অবশ্য অভিযুক্ত চোরের কাছ থেকে চুরি হওয়া ১০০০ টাকা উদ্ধার হয়। তবে সোনার চেনটি এখনও মেলেনি।

আরও অন্যান্য খবর