কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে এর আগেও হাইকোর্টের রোষের মুখে পড়েছে নির্বাচন কমিশন। এবার ফের একবার কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে কমিশনকে তোপ দাগল আদালত। আদালতের পর্যবেক্ষণ হলফনামায় অনেক প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়েছে কমিশন। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন, তাদের থাকা-খাওয়ার কী ব্যবস্থা করা হয়েছে, কমিশনকে তা জানানোর নির্দেশ দিল হাইকোর্ট।
আজ, বুধবার পঞ্চায়েত নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনী মামলায় হলফনামা দিতে হাই কোর্টের হাজির হয়েছিলেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা। তবে হাইকোর্ট কমিশনারের এই হলফনামায় সন্তুষ্ট নয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, কমিশনার যে হলফনামা দিয়েছেন, তাতে অনেক প্রশ্নের উত্তরই এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হলেও সংক্ষিপ্ত জবাব দেওয়া হয়েছে যা সন্তোষজনক নয়।
আদালত সূত্রে খবর, উত্তর না দেওয়া নিয়ে কেন্দ্র কিছু গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ তুলেছে। এরপরই প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ বলে, বাহিনী মোতায়েন করা ও তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যাপারে পরিকল্পনা কী আছে, তা কেন্দ্রকে জানাতে হবে কমিশনকে। হাই কোর্টের নির্দেশ, ভোটারের আত্মবিশ্বাস বাড়াতেও কমিশনকে পদক্ষেপ নিতে হবে।
বুথে সিসিটিভি বসানো নিয়ে হলফনামায় যা লেখা হয়েছে, তাতে খুশি নয় আদালত। এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে আগামী সোমবার। যে সমস্ত নির্দেশ এখনও কার্যকর হয়নি, তা পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কমিশনকে। রাজ্যের কাছে হাইকোর্ট আবেদন করেছে যাতে পঞ্চায়েত ভোটে অশান্তি এড়াতে কমিশনকে সমস্ত সাহায্য করে রাজ্য।
কমিশনের বিরুদ্ধে কেন্দ্র আদালতে অভিযোগ জানিয়েছে যে কেন্দ্রীয় বাহিনী কীভাবে কোথায় দেওয়া হবে, সেই ব্যাপারে পরিকল্পনার কথা বারবার জানার জন্য চিঠি দেওয়া হলেও কোনও জবাব দেওয়া হয়নি কমিশনের তরফে। কত বুথ, কোথায় কত বাহিনী মোতায়েন করা হবে, তা কিছুই জানতে পারছে না কেন্দ্র। কীভাবে বাহিনী যাবে তা নিয়েও কিছু জানানো হচ্ছে না। বাহিনীকে কোথায় রাখা হবে, তাদের থাকা-খাওয়ার কী ব্যবস্থা, এসব ব্যাপারে নীরব কমিশন ও রাজ্য। শুধুমাত্র কোন জেলায় কত দেওয়া হচ্ছে, সে ব্যাপারে ২৪ জুন একটা জবাব দিয়েছিল কমিশন। রাজ্য নোডাল অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু তিনিও কোনও প্ল্যান জানাচ্ছেন না।





