মণিপুরের বেলায় সরব, বাংলার হিংসা নিয়ে কেন চুপ মমতা, ‘চলো কালীঘাট’, স্লোগান তুলে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবী শুভেন্দুর

পঞ্চায়েত ভোট ঘোষণার পর থেকেই হিংসার ছবিই দেখছে বাংলার মানুষ। আর আজ তো নির্বাচনের প্রথমার্ধেই ভোট হিংসায় বলি হয়েছেন ৯ জন। এমন অরাজকতার জেরে বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবী তুললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

আজ, শনিবার ভোটপর্ব শুরু হতেই রাজ্যের নানান প্রান্ত থেকে একের পর এক অশান্তির খবর ভেসে আসে। শুভেন্দু অধিকারীর জেলা পূর্ব মেদিনীপুর থেকেও উঠে আসে হিংসার খবর। এখনও পর্যন্ত সকাল থেকে ৫ জন তৃণমূল কর্মী ও বিজেপি ও সিপিএমের একজন করে কর্মীর মৃত্যুর খবর মিলেছে।

কী বলছেন শুভেন্দু? 

এমন পরিস্থিতিতে শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, “বাংলায় পঞ্চায়েত ভোট হচ্ছে না। গণতন্ত্র মারা গিয়েছে। এই পরিস্থিতি রুখতে, গণতন্ত্র বাঁচাতে পতাকা ফেলে সমস্ত বিরোধীর একজোট হওয়া উচিত”। এরপরই হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “কালীঘাটে চলুন। ইটগুলো খুলে নিয়ে আসি”।

অন্যান্য বিজেপি নেতা-নেত্রীদের কী বক্তব্য? 

বিজেপি নেত্রী তথা রাজ্য বিজেপির অন্যতম মুখপাত্র কেয়া ঘোষ পঞ্চায়েত ভোটের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মনিপুরের প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর কথায়, “মনিপুর নিয়ে কথা হচ্ছে, মনিপুরের ৩৫৫ নিয়ে কথা হচ্ছে। কিন্তু সেখানে নির্বাচন হচ্ছে না। আর আমাদের পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের বলি ইতিমধ্যেই ২৮ জন। কোথাও কোথাও সকাল ৮টার মধ্যে ভোট শেষ হয়ে গেছে। তাহলে এই অরাজকতার জন্য পশ্চিমবঙ্গে কেন ৩৫৫ ধারা জারি করা হবে না”?

অন্যদিকে, তরুণ বিজেপি নেতা প্রীতম পঞ্চায়েত নির্বাচনে হিংসার নিয়ে সরাসরি আক্রমণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁর দাবী, “শেষ ২৪ ঘন্টায় ১০ জনের প্রাণ কেড়ে নিলেন মাননীয়া। আমরা বারবার আবেদন করছি রাজ্যে ৩৫৫ অথবা ৩৫৬ ধারা লাগু করা হোক। মাননীয় রাজ্যপাল আপনি নিজে এই অপদার্থ নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগ করেছিলেন। আপনি নিজে বাংলার সব জায়গায় গিয়ে দেখতে পাচ্ছেন রাজ্যের কী অবস্থা। আজ আরও যে কত প্রাণ যাবে তা আমরা জানি না। আপনাকে এবং ভারত সরকারকে আবেদন, যদি বাঙালির প্রাণ বাঁচাতে হয়, তাহলে এখানে অবিলম্বে ৩৫৫ ধারা লাগু করুন”।

এদিকে আবার বিরোধীদের আক্রমণের পাল্টা জবাব দেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। শুভেন্দুর মন্তব্য নিয়ে তাঁর পাল্টা দাবী, “শুভেন্দু ওর দিল্লির মামা কাককে গিয়ে আগে বলুক, মণিপুরে কেন ৩০০ মানুষ মারা গেল। ওখানে গণতন্ত্র কি সুখে বিচরণ করছে”।

কুণালের কথায়, বাংলায় প্রায় ৬১ হাজার বুথে ভোট হচ্ছে। এর মধ্যে মাত্র ৪৩ টা বুথ থেকে অশান্তির খবর এসেছে। বেশ কয়েক জনের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু বাকি জায়গায় শান্তিপূর্ণ ভাবে নির্বাচন হচ্ছে।

আরও অন্যান্য খবর