পঞ্চায়েত নির্বাচন মিটতেই এক পুরনো মামলায় পূর্ব মেদিনীপুরের বিজেপি নেতা কনিষ্ক পণ্ডাকে গ্রেফতার করল পুলিশ। আজ, বুধবার তাঁর বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে মারিশদা থানার পুলিশ। এদিন সকাল থেকেই তাঁর বাড়ি ঘিরে ফেলেছিল পুলিশ, এমনটাই জানা যায়। বিজেপি নেতার পরিবারের অভিযোগ, বেআইনিভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে কনিষ্ক পণ্ডাকে।
কেন গ্রেফতার করা হল বিজেপি নেতাকে?
সূত্রের খবর, এদিন প্রায় ৩০ জনের একটি পুলিশ বাহিনী গিয়ে কনিষ্কর বাড়ি ঘিরে ফেলেছিলেন। এরপর তাঁকে বেরোতে বলা হলেও বাইরে আসেননি তিনি। এরপর বিজেপি নেতার বাড়ির দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়ে বাহিনী। এরপরই কনিষ্ক পন্ডাকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে মারিশদা থানায় রাখা হয়েছে বিজেপি নেতাকে।
শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠ এই নেতাকে কেন গ্রেফতার করা হল, তা প্রথমে জানা যায়নি। তবে পরে পুলিশ সূত্রে খবর মেলে যে পুরনো একটি মারামারি এবং খু’নের চেষ্টার মামলাতেই গ্রেফতার করা হয়েছে কনিষ্ক পণ্ডাকে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত, ভোট পরবর্তী সময়ে বিজেপি নেতাকে এভাবে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গ্রেফতার আসলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
কনিষ্ক পণ্ডার রাজনৈতিক জীবন
পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথির নেতা কণিষ্ক বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। ২০২১ সালে শুভেন্দু তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদানের পর তিনিও নাম লেখান গেরুয়া শিবিরে। সেই সময় ‘দাদার অনুগামী’ স্লোগান তুলে অনুগামীদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা ছিল কণিষ্ক পণ্ডার।
তবে কনিষ্ক পণ্ডার রাজনৈতিক জীবন বেশ পরিবর্তনশীল বলা যায়। প্রথমে কংগ্রেসের কর্মী ছিলেন তিনি। রাজ্যে পালাবদলের সময় তৃণমূলে যোগ দেন কনিষ্ক পণ্ডা। ২০১৮ সালে কাঁথি ৩ পঞ্চায়েত সমিতি তে তৃণমূলের টিকিটের প্রার্থী হয়ে ভোটে জেতেন তিনি। পঞ্চায়েত সমিতির বনভূমি কর্মাধ্যক্ষ নির্বাচিত হন।
অনুগামী হিসেবে পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ পদ থেকে ইস্তফা দেন। ফের একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরেই তাঁর অনুগামী হয়ে দলবদল করেন কণিষ্ক পণ্ডাও। পরবর্তীতে ‘দাদার অনুগামী’ হিসেবে নিজেকে রাজনৈতিক মহলে তুলে ধরেন এই বিজেপি নেতা।





