পঞ্চায়েত নির্বাচন মেটার পর তৃণমূল সরকার পড়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি শানিয়েছিল বঙ্গ বিজেপি। শান্তনু ঠাকুর, সুকান্ত মজুমদার তৃণমূল সরকার ফেলে দেওয়া নিয়ে মন্তব্য করেন। এবার তাদের সেই হুঁশিয়ারির পাল্টা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে তিনি বলেন, “আগে একটা বালতি উল্টাতে বলুন, তারপর সরকার উল্টোতে আসবে”।
বঙ্গ বিজেপির তরফে কী হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল?
গত শনিবার এই বিতর্কের সূত্রপাত। এক দলীয় অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর হুঁশিয়ারি দেন যে আগামী পাঁচ মাসের মধ্যে তৃণমূল সরকার পড়ে যাবে। এর পরদিন অর্থাৎ রবিবার তাঁকে সমর্থন করেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।
তিনি বলেছিলেন, ‘‘সরকার পাঁচ মাস-ছ’মাস যখন খুশি পড়ে যেতে পারে। অসুবিধার তো কিছু নেই। সরকার কী ভাবে চলে? বিধায়কদের সমর্থনে। বিধায়কেরা হঠাৎ মনে করল, আমরা সমর্থন করব না। আমরা অন্য কাউকে সমর্থন করব। বিধায়কদের তো মনে হতেই পারে। না হওয়ার তো কিছু নেই। আবার ধরুন, এমন গণআন্দোলন শুরু হল যে বিধায়কেরা বলল আমরা আজ থেকে আর বিধায়ক পদে থাকব না”।
এর প্রেক্ষিতে কী জবাব দিলেন মমতা?
২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে হারাতে একজোট হয়েছে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলি। গতকাল, মঙ্গলবার বেঙ্গালুরুতে ছিল মহা বৈঠক। সেই প্রসঙ্গেই বিজেপিকে একহাত নেন মমতা। বলেন, “বলুন আগে বালতি ফেলতে, তারপর সরকার উল্টোতে আসবে। কাল থেকে তো ভয়ে থর থর করে কাঁপবে। ওদের একটাই কাজ হিংসা ছড়াও, বিভেদ ছড়াও আর মানুষের রক্ত নাও। এবার সারা দেশের মানুষ ওদের সঙ্গে বদলা নিতে তৈরি হচ্ছে। ইন্ডিয়ার (২৬টি দলের নবগঠিত জোটের নাম) মাধ্যমেই ভোট বাক্সে মানুষ এর বদলা নেবে”।
আজ, বুধবার বিকেলে ভোট পরবর্তী হিংসায় আহতদের দেখতে এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে আহতদের সঙ্গে দেখা করেন। আহতরা মুখ্যমন্ত্রীকে তাদের ওপরে হওয়া অত্যাচারের বিবরণ দেন। তাদের চিকিৎসার যাবতীয় খোঁজখবরও নেন মুখ্যমন্ত্রী।
বাইরে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যারা হিংসা হিংসা বলে চিৎকার করছে, সেই বিজেপিই সবচেয়ে বেশি অত্যাচার করছে। ভোটে জিততে পারেনি বলে নন্দীগ্রামে আমাদের এক সমর্থকের বউ, ছেলে-মেয়ে সমেত পুরো বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। কোনওমতে ওরা প্রাণে বেঁচেছে”।






