একদিনে কলকাতায় লরির ধাক্কায় প্রাণ গেল দু’জনের, সৌরনীলের পর তরুণীকে পিষে দিল বেপরোয়া লরি

সকালে সাত বছরের সৌরনীল আর রাতে এক তরুণী। লরির ধাক্কায় কলকাতায় একই দিনে জোড়া মৃত্যু। গতকাল, শুক্রবার খুদে পড়ুয়ার লরির ধাক্কায় মৃত্যুর পর উত্তাল হয়েছিল গোটা কলকাতায়। সেই আবহের মধ্যেই দ্বিতীয় হুগলি সেতুতে ফের সেই লরির ধাক্কাতেই প্রাণ গেল এক তরুণীর।

কীভাবে ঘটল এই দুর্ঘটনা?

জানা গিয়েছে, মৃত ওই তরুণীর নাম সুনন্দা দাস। তিনি হাওড়ার নেতাজি সুভাষ রোডের বাসিন্দা। ধর্মতলায় একটি হোটেলে কাজ করতেন ওই তরুণী। গতকাল, শুক্রবার রাত ১১টা নাগাদ স্কুটি চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন সুনন্দা। দ্বিতীয় হুগলি সেতুতে ওঠার ঠিক আগেই সুনন্দার স্কুটিতে পিছন থেকে ধাক্কা মারে একটি বিশালাকার লরি। তাঁর শরীরের একটি অংশ ভারী চাকার তলায় পিষে যায়।

দুর্ঘটনা দেখে ছুটে আসেন রাস্তায় কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা। তড়িঘড়ি ওই তরুণীকে নিয়ে যাওয়া হয় এসএসকেএম হাসপাতালে। কিন্তু চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। সূত্রের খবর, ওই লরিটিকে আটক করেছে পুলিশ তবে চালক পলাতক। তার সন্ধান চালাচ্ছে পুলিশ।

গতকাল সকালে লরির ধাক্কাতেই মৃত্যু হয় ৭ বছরের পড়ুয়ার

গতকাল, শুক্রবার সকালে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র সৌরনীল সরকারকে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন বাবা। বেহালা চৌরাস্তা মেট্রো স্টেশনের কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে। রাস্তা পার হওয়ার সময় উল্টো দিক থেকে আসা দ্রুতগতির লরি পিষে দেয় বড়িশা হাইস্কুলের ওই খুদে পড়ুয়াকে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সৌরনীলের।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের দিকে আঙুল তোলেন অভিভাবকরা। স্কুলের সামনে পড়ুয়াদের সুরক্ষা কোথায়, প্রশ্ন তুলে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন তারা। অভিভাবকদের অভিযোগ, এই রাস্তায় কোনও ট্রাফিক নিয়ম মানা হয় না। আর সেদিকে কোনও নজরই নেই পুলিশ। পুলিশের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন অভিভাবকরা। বিক্ষোভকারীদের দাবী,এ পুলিশ টাকা নেয় বলে ওই রাস্তা দিয়ে দ্রুতগতিতে বেরিয়ে যায় লরি। 

এদিন পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান অভিভাবকরা। পুলিশকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয় ইট। পুলিশের ভ্যান ও বাইকে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। র‍্যাফ নামানো হয়। কাঁদানে গ্যাসের সেল ছোঁড়া হয়। 

আরও অন্যান্য খবর