ধূপগুড়ি উপনির্বাচনের আগে বড় ধাক্কা শাসক শিবিরে, অভিষেকের সভা থেকে ফিরেই বিজেপিতে যোগ প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের

কাল বাদ পরশু অর্থাৎ আগামী মঙ্গলবার ধূপগুড়িতে উপনির্বাচন। এমন আবহে এবার বড় ধাক্কা খেল শাসক শিবির। শনিবার ধূপগুড়িতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় যোগ দেওয়ার পরও আজ, রবিবার সকালেই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক মিতালী রায়।

ধূপগুড়িতে উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধীর মধ্যে লড়াই তুঙ্গে। এরই মধ্যে ভাঙন তৃণমূলে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা থেকে ফিরেই মত বদল প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের। ২০১৬ থেকে ২০২১ পর্যন্ত ধূপগুড়ির বিধায়ক ছিলেন মিতালী রায়।

কিন্তু কেন আচমকা এই দলবদল তাঁর?

একুশের বিধানসভা নির্বাচনে মিতালী রায়কে টিকিট দেয় তৃণমূল। কিন্তু বিজেপির বিষ্ণুপদ রায়ের কাছে পরাজিত হন তিনি। তবে বিষ্ণুপদবাবুর মৃত্যুতে ধূপগুড়ি উপনির্বাচনে তাঁকে আর প্রার্থী করেনি দল। তৃণমূলের হয়ে লড়ছেন নির্মলচন্দ্র রায়। টিকিট না পাওয়ার পর থেকেই ক্ষুব্ধ ছিলেন মিতালী। বারবার অভিযোগ করেছিলেন একুশের ভোটে হারের পর থেকে দলের কাছে তিনি ব্রাত্য হয়ে গিয়েছেন।

তাৎপর্যপূর্ণভাবে গতকালের অভিষেকের সভায় উপস্থিতও ছিলেন মিতালী। কিন্তু আজ ধূপগুড়ির নেতাজি পাড়াতে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে । বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, জেলা সভাপতি বাপী গোস্বামী ও তাবড় বিজেপি নেতাদের উপস্থিতিতে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি।

যোগদান প্রসঙ্গে কী জানালেন মিতালী রায়?

দলীয় পতাকা হাতে তুলে নেওয়ার পর মিতালী রায় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন। বলেন, ““আমাকে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জোর করে প্রচারে নামানো হয়েছে। মানসিক চাপ নিয়ে আমি থাকতে পারছিলাম না”।

এই যোগদান নিয়ে  সুকান্ত মজুমদাব বলেন, “মিতালী রায় উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সরব ছিলেন। আন্দোলন করেছেন। কিন্তু সমস্যার কোনও সমাধান হয়নি”।

কী প্রতিক্রিয়া তৃণমূলের?

উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ বলেন, “গতকাল মিতালী রায় মঞ্চে দাঁড়িয়ে তৃণমূল প্রার্থীকে জয়ী করার আবেদন জানিয়েছেন। এখন যদি তিনি বিজেপি-তে যোগদান করেন তাহলে তিনি কী বলে সেটা শোনার অপেক্ষায় আমরাও আছি”।

RELATED Articles