সাফল্য! পেটের মধ্যে জন্ম নিয়েছিল দেড় কেজির টিউমার, গুটিaয়ে গিয়েছিল খাদ্যনালী, তিনমাসের শিশুর প্রাণ বাঁচাল এসএসকেএম

কিছুই খেতে পারত না শিশুটি। এর ফলে বৃদ্ধিও হচ্ছিল না তার। পেটের মদ্ধ্যে জন্ম নিয়েছিল এক প্রকাণ্ড মাংসপিণ্ড। এর জেরে খাদ্যনালী গুটিয়ে গিয়েছিল। চিকিৎসার ভাষায় এইও ধরণের টিউমারের নাম রেট্রোপেরিটোনিয়াল টেরাটোমা।

পেটের মধ্যে এই অতিকায় টিউমার জন্ম নেওয়ায় খেতেই পারত না দক্ষিণ ২৪ পরগণার মথুরাপুরের বাসিন্দা তিনমাসের শিশু দীপশিখা। খেতে না পারার কারণে দিনদিন ওজনও কমছিল। ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছিল সে। বয়স তিনমাস হলেও দীপশিখার ওজন ছিল বড়োজোর তিন কেজি।

কিন্তু কেউ আর জানত ওই তিন কেজি ওজনও তার নিজের নয়। এর বেশিরভাগ ওজনই তার পেটে থাকা অতিকায় সেই টিউমারের। সেই প্রকাণ্ড মাংসপিণ্ডের ওজনই দেড় কেজির বেশি। এমন অবস্থা থেকে শিশুকে বের করে আনল এসএসকেএম। মৃত্যুর হাত শিশুকে বাঁচাল কলকাতার এই সরকারি হাসপাতাল।

জানা গিয়েছে, টানা তিন ঘণ্টা ধরে অস্ত্রোপচার করে শিশুর শরীর থেকে বের করে আনা হয়েছে এই মাংসপিণ্ডটি। জটিল এই অস্ত্রোপচারের দায়িত্বে ছিলেন শিশুশল্য বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডঃ সুজয় পাল। টিউমারটি বের করে আনা হলে দেখা যায়, ওটির ওজন এক কেজি ছ’শো গ্রাম।

কী জানাচ্ছেন চিকিৎসক?

ডঃ সুজয় পাল জানিয়েছেন, পেটের ভিতর রেট্রোপেরিটোনিয়াম অংশে ছিল এই টিউমারটি। সাধারণত এই ধরণের মাংসপিণ্ড ডিম্বাশয়ে দেখা যায়। এই টিউমারের অদ্ভুত অবস্থানের কারণেই খেতে পারত না ওই শিশুটি। ফলে বৃদ্ধিও কমে গিয়েছিল তার। এই প্রকাণ্ড টিউমারের কারণে শ্বাসকষ্টেও ভুগতে হত তিনমাসের একরত্তিকে।

কীভাবে তৈরি হয় এই টিউমার

চিকিৎসকের কথায়, জার্ম সেল থেকে আদতে এই টিউমার তৈরি হয়। এই ধরণের বিরল টিউমারে দাঁত, চুল, হাড়, জল পাওয়া যায়। চিকিৎসক জানান, এই তিনমাসের শিশুর টিউমার থেকে হাড়ের কিছু অংশ মিলেছে। অস্ত্রোপচারের পর শিশুটি সুস্থ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

আরও অন্যান্য খবর