ফের একবার ধর্না যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। তবে এবার আর পড়ুয়াদের নয়, বরং রাতভর ধর্নায় বসলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বুদ্ধদেব সাউ-সহ কর্মসমিতির কয়েকজন সদস্য। কর্মসমিতির বৈঠক চলাকালীন এক নাগাড়ে স্লোগান দিতে থাকে কিছু পড়ুয়া। হেনস্থা করা হয় উপাচার্য ও বাকিদের। সেই প্রতিবাদেই রাতভর ধর্না উপাচার্যদের।
ঠিক কী অভিযোগ?
জানা গিয়েছে, কর্মসমিতির বৈঠক ১২ ঘণ্টা ধরে চলার পরও তা অসম্পূর্ণ ছিল। সেই কারণে গতকাল, বুধবার দুপুর তিনটের সময় ফের বৈঠক বসে। কিন্তু বৈঠক চলাকালীনই শুরু হয় ঝামেলা। নানান দাবী তুলতে থাকে পড়ুয়াদের একাংশ। শুরু হয় অশান্তি। একটানা স্লোগান দিতে থাকে পড়ুয়ারা, এমনটাই অভিযোগ।
এই ঘটনার প্রতিবাদেই রাত দুটো নাগাদ অরবিন্দ ভবনের বাইরে অবস্থানে বসেন কর্মসমিতি বৈঠকের সদস্যরা। সেই ধর্নায় রয়েছেন অন্তর্বর্তী উপাচার্য, সহ উপাচার্য, ডিন-সহ একাধিক অধ্যাপক, কর্মসমিতির সদস্যরা। প্রথম বর্ষের পড়ুয়ার মৃত্যুতে র্যাগিং অভিযুক্তদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে না। অভিযোগ, একদল পড়ুয়াদের বিক্ষোভের জেরে অভিযুক্তদের শাস্তি দেওয়া যাচ্ছে না । পড়ুয়াদের এই ভূমিকার বিরোধিতা করে রাতভর অবস্থানে বসেন তারা।
কী জানাচ্ছেন কর্মসমিতির সদস্যরা?
ইংরাজি বিভাগের অধ্যাপক এবং ইসি কমিটির অন্যতম সদস্য, অধ্যাপক মনজিৎ মণ্ডল বলেন, “আমরা বাধ্য হয়ে সত্যাগ্রহ আন্দোলনে নেমেছি। এই অত্যাচার সহ্য করা যাচ্ছে না। বারবার বৈঠক হলেও সেখানে ছাত্রদের একাংশ অশান্তি করছেন। কাল বৈঠকে একই ঘটনা ঘটছে। অনুরোধ করা সত্ত্বেও ওঁরা শোনেননি আমাদের কথা। এভাবে পারা যায় না”।
তিনি আরও বলেন, “অধ্যাপক হিসেবেও খারাপ লাগছে। অবস্থান চলবে। আমরাও বারবার কেন এই পরিস্থিতির মধ্যে পড়ব”।
উপাচার্যের দাবী, “আমরা তো পড়ুয়াদের উপর গায়ের জোর দেখাতে পারব না। সেই কারণে শান্তভাবে অবস্থান করছি। আশা করি পড়ুয়ারা শুভবুদ্ধির পরিচয় দেবেন”।





