ফুচকা! নামটা শুনলেই যেন জিভে জল চলে আসে। ফুচকার লোভকে উপেক্ষা করা বেশ কিন্তু বেশ কঠিন। সন্ধ্যেবেলা পাড়ার মোড়ে ফুচকার কাকুর কাছে ভিড় দেখলে অবাক হতেই হয়। এবার এই ফুচকা দিয়েই বানানো হয়েছে কলকাতার এক পুজো মণ্ডপ। কিন্তু সেখানেও বিপত্তি।
এই বছর বেহালা নতুন দলের তরফে নেওয়া হয়েছে এই উদ্যোগ। ফুচকা দিয়েই মণ্ডপের সাজসজ্জা করেছেন তারা। মহালয়ার পর উদ্বোধন হয় এই মণ্ডপের। সেই মণ্ডপের কথা চাউর হতেই দূরদূরান্ত থেকেও লোকজন আসছে ফুচকার মণ্ডপ দর্শনের জন্য। শুধুই কী দর্শন? সেই সঙ্গে চলছে মণ্ডপ থেকে ফুচকা খাওয়ার কম্পিটিশনও।
এক কর্মকর্তা জানান, “ফুচকা কমবেশি সবাই ভালবাসেন। মণ্ডপে ঢুকে হাতের নাগালে ফুচকা পেয়ে কেউ লোভ সামলাতে পারছেন না। মণ্ডপের থেকেই ফুচকা তুলে নিচ্ছেন”।
কিন্তু এই ফুচকা খেয়ে নিজেদেরই বিপদ ডেকে আঞ্চেন দর্শনার্থীরা। কারণ ফুচকা যাতে দীর্ঘ সময় ধরে মুচমুচে থাকে, নেতিয়ে না যায়, সেই কারণে এই ফুচকায় কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়েছে। আর সেই ফুচকা খেলে শরীর খারাপ হতে পারে। সেকথা মাইকে প্রচারও করা হচ্ছে কিন্তু সেদিকে যেন হুঁশই নেই কিছু মানুষের। মণ্ডপ থেকে ফুচকা তুলে টপাটপ মুখে পুরছেন তারা। তাদের কর্মকর্তারা আটকাচ্ছেন ঠিকই। কিন্তু ভিড়ের মাঝে সকলের দিকে নজর দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
বেহালা নতুন দলের এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা তো ফুচকা দিয়ে সাজিয়েছিলাম। কিন্তু, বাচ্চারা তো লোভ সামলাতে পারছে না। হাতের কাছে পেলেই তুলে নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে এই ফুচকা কিন্তু স্বাস্থ্যের পক্ষে ভাল নয়। শরীর খারাপ হতে পারে। এতে কেমিক্যাল দেওয়া আছে। আমরা সে বিষয়ে সকলকে সতর্কও করছি। পেট খারাপ হতে পারে। সকলকে বলছি বাইরে কিনে খান। সেই ব্যবস্থাও এখানে আছে। কিন্তু, সবাই কথা শুনছে না। আসলে ফুচকার আকর্ষণটাই এরকম”।
এই মণ্ডপ নিয়ে বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে। বেহালা নতুন দলের সভাপতি দেবব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, “৫৮ বছরের পুজো। আমাদের শিল্পী অয়ন সাহা এই মণ্ডপের সজ্জা করেছেন। উনিই প্রথম আমাদের এই ভাবনার কথা বলেন। আমাদের থিম তুষ্টি বা ইংরাজিতে Satisfaction. উনিই সেটাকে ফুচকার প্যান্ডেলে পরিণত করেছেন। আমাদের এখানে দু’জন ব্রিটিশ শিল্পীও রয়েছেন। তাঁরা মূল শিল্পীকে সাহায্য় করেছেন পুরো কাজে। তাঁরা দেড় মাস ধরে আমাদের এখানে রয়েছেন। যেভাবে আমাদের মণ্ডপ ভাইরাল হয়ে গিয়েছে তাতে আমরা আপ্লুত”।





