বছর গড়ালেই বিধানসভা নির্বাচন। নানান রাজনৈতিক দলগুলি শুরু করে দিয়েছে প্রস্তুতি। নির্বাচনের আগে সকলের ভোটার কার্ড ঠিকঠাক রয়েছে কী না, সেদিকেও নজর রয়েছে শাসক দলের। এবার এই ভোটার কার্ড নিয়েই বিতর্কিত মন্তব্য করে বসলেন বারাসাতের তৃণমূল নেত্রী রত্না বিশ্বাস। তাঁর সেই মন্তব্য তুমুল বিতর্কের ঝড় তুলেছে।
বাংলাদেশীদের ভোটার লিস্টে নাম তুলতে বললেন তৃণমূল নেত্রী
গতকাল, বৃহস্পতিবার ছিল বারাসাতের লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের জন্মদিন। এই উপলক্ষ্যে হাবড়ার ১ নম্বর ব্লকে এক্রি দলীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সেখানেই বক্তব্য রাখেন বারাসাত সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের চেয়ারপার্সন রত্না বিশ্বাস। নিজের বক্তব্যে এদিন বাংলাদেশীদের ভোটার লিস্টে নাম তোলার কথা বলেন তিনি।
রত্না বিশ্বাস বলেন, “তিন মাস পরেই লোকসভা নির্বাচন। ভোটার লিস্টের কাজ চলছে। জাকিরদার নির্বাচনী এলাকায় অনেক বাংলাদেশি লোক বসবাস করেন। জাকিরদা লিংকটা ভালো করতে পারেন। বাংলাদেশ থেকে যাঁরা এসেছেন যদি তাঁদের ভোটার লিস্টে নাম তুলতে লিংকের কোনও সমস্যা হয় তাহলে জাকিরদার এই অফিসে এসে যোগাযোগ করবেন। এই কাজটা অতি দ্রুত করবেন। আমরা চাই না একটি ভোটও বাইরে পড়ুক”।
তৃণমূল নেত্রীর এহেন মন্তব্য তুমুল বিতর্ক তৈরি করেছে। তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে সাফাই দিয়ে হাবড়া ১ পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, “আমাদের এলাকায় বেশিরভাগ বাসিন্দাই ১৯৬০-৬৫ সালের পর ওপার বাংলা থেকে এসে বসবাস করছেন। ১৯৯০ সালের আগে ভোটার তালিকায় নাম ছিল। কিন্তু যেকোনও কারণেই হোক তার পর ভোটার তালিকা থেকে অনেকের নাম বাদ গিয়েছে। সেই সময়ের ভোটার তালিকাগুলি আমরা ইন্টারনেট ঘেঁটে বের করে রেখেছি। যার যার প্রয়োজন তাঁদের দেওয়া হবে। সেই কথাটাকেই উনি লিংক করিয়ে দেবেন বলতে চেয়েছেন”। তাঁর সংযোজন, “আমরা পরিষেবা দিয়ে থাকি, কোনও বেআইনি কাজ করি না। বাংলাদেশী কথাটা না বললেই ভালো হত। মুখ ফসকে উনি বলে ফেলেছেন”।
কী প্রতিক্রিয়া বিরোধীদের?
তৃণমূল নেত্রীর এহেন মন্তব্যকে হাতিয়ার করে ময়দানে নেমেছে বিরোধীরা। এই ঘটনায় স্থানীয় বিজেপি নেতা বিপ্লব হালদার বলেন, “এটা তো আইনবিরোধী কথা। পূর্ববঙ্গের মানুষদের নাগরিকত্ব দেওয়ার অধিকার ওঁর নেই। পূর্ববঙ্গ থেকে আসা মানুষের নাম কী করে ভোটার লিস্টে উঠবে! এসব বলে উনি নিজে ফাঁসলেন। জাকির হোসেন সাহেবের উচিত এই ফাঁদে পা না দেওয়া”।
অন্যদিকে, সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “বেআইনি কাজ করার জন্য মুখিয়ে বসে রয়েছে তৃণমূল। শুধু টাকাটা পেলেই হল”।






