আগামীকাল অর্থাৎ ১১ নভেম্বর রয়েছে নরক চতুর্দশী। প্রতি বছর কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশীর দিন পড়ে এই তিথি। দীপাবলির এক দিন আগে এবং ধনতেরসের একদিন পরে উদযাপিত হয় এই নরক চতুর্দশী। হিন্দু ধর্মে নরক চতুর্দশীর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। অনেক বিশ্বাস রয়েছে এই নরক চতুর্দশী নিয়ে, যা এই দিনটিকে আরও বিশেষ করে তোলে।
কথিত রয়েছে, এই দিনে ঘরে ঘরে দেবী লক্ষ্মীর আগমন ঘটে। তাই বাড়ির সমস্ত দিক সঠিকভাবে পরিষ্কার করা হয়। তবে নরক চতুর্দশী উদযাপনের পেছনে ধর্মীয় বিশ্বাসও রয়েছে। কথিত রয়েছে, নরক চতুর্দশীর দিন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নরকাসুরকে বধ করেছিলেন।
এই দিনে বিশেষ কিছু আচার মেনে চলুন-
যমের নাম প্রদীপ
নরক চতুর্দশীর দিনে যমের নামে প্রদীপ জ্বালানোর প্রথা আছে। বিশ্বাস করা হয় যে এই দিনে যমের পুজো করলে অকাল মৃত্যুর ভয় দূর হয়।
কালিকা মায়ের পুজো
নরক চতুর্দশী কালী চৌদাস নামেও পরিচিত। এই দিনে কালিকা দেবীর আরাধনা করলে দুঃখ দূর হয়।
ভগবান কৃষ্ণের পুজো
নরক চতুর্দশীর দিনে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পুজো করা শুভ বলে মনে করা হয়। এতে করে ব্যক্তির ইচ্ছা পূরণ হয়।
১৪ টি প্রদীপ জ্বালানো
এই দিনে ১৪টি প্রদীপ জ্বালানোর তাৎপর্য রয়েছে। এই বাতিগুলো সঠিক জায়গায় রাখতে হবে।
- প্রথম প্রদীপটি রাতে বাড়ির বাইরে, আবর্জনার স্তূপের কাছে, দক্ষিণ দিকে মুখ করে রাখুন। দ্বিতীয় প্রদীপটি নির্জন মন্দিরে রাখুন। এতে করে ঋণ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
- তৃতীয় প্রদীপটি দেবী লক্ষ্মীর সামনে আর চতুর্থ প্রদীপটি মা তুলসীর সামনে রাখুন।
- পঞ্চম প্রদীপ বাড়ির দরজার বাইরে জ্বালান আর এবং ষষ্ঠ প্রদীপটি জ্বালান অশ্বত্থ গাছের নীচে।
- সপ্তম প্রদীপ জ্বালান বাড়ির মন্দিরে। ঘরের যে স্থানে আবর্জনা রাখা হয়, সেখানে জ্বালাতে হবে অষ্টম প্রদীপ।
- বাড়ির বাথরুমে জ্বালান নবম প্রদীপ। দশম প্রদীপ ও একাদশ প্রদীপ বাড়ির ছাদে এবং দ্বাদশ প্রদীপ জানালার কাছে জ্বালান।
- ত্রয়োদশ প্রদীপ জ্বালান বারান্দায় আর রান্নাঘরে জ্বালান চতুর্দশ প্রদীপ।





